Thursday, 19 November 2020

জামালগঞ্জে অর্ধশতাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম আলোচনায় |Sunamganj Live|সুনামগঞ্জ লাইভ

জামালগঞ্জে অর্ধশতাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম আলোচনায় |Sunamganj Live|সুনামগঞ্জ লাইভ


 বিশ্বজিত রায়, জামালগঞ্জ

জামালগঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আগেভাগেই শুরু হয়েছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের জোর প্রচার-প্রচারণা। উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশতাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনও ঠিক না হলেও প্রার্থীরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকা ঘুরে নিজেদের প্রার্থীতার জানান দিচ্ছেন। এ নিয়ে উপজেলার প্রতিটি গ্রাম ও হাট-বাজারে নির্বাচনী আলাপচারিতা ও চায়ের আড্ডা শুরু হয়েছে। আগামী মার্চ-এপ্রিল নাগাদ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছে উপজেলা নির্বাচন অফিস।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের গেল দুর্গোৎসবে অধিকাংশ চেয়ারম্যান প্রার্থীই নিজ এলাকার পুজোম-প পরিদর্শনের পাশাপাশি ব্যানার-ফেস্টুন টানিয়ে নির্বাচনে নিজেদের ইচ্ছার কথা তুলে ধরেছেন। প্রার্থীদের এই দৌড়ঝাঁপ ভোটাররা ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বরাদ্দের ব্যাপারটিতে অনাগ্রহের কথাই জানিয়েছে সিংহভাগ মানুষ। দলীয় মনোনয়নে নির্বাচন হলে তা নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক হবে না বলেও মত দিয়েছেন তারা। তবে দলীয় প্রতীক ভাগিয়ে এনে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাইছে সরকার দল সমর্থিত প্রার্থীরা। অপরদিকে বিএনপি ঘরানার প্রার্থীরাও দলীয় পরিচয় গোপন রেখে নিজেদের নির্বাচনী কাতারে নিয়ে আসছেন বলে জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে প্রায় অর্ধ শতাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম নির্বাচনী আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে ১নং বেহেলী ইউনিয়নে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান অসীম তালুকদার, মো. সারোয়ার হোসেন, রতি রঞ্জন পুরকায়স্থ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল হকের ছেলে মো. আমিনুল হক মনি, সুনামগঞ্জ জেলা যুবলীগের কার্যকরি কমিটির সদস্য, সাবেক ছাত্রনেতা সবুজ কান্তি দাস, ইউপি সদস্য অজিত রায় ও সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক সুব্রত সামন্ত সরকার ।
(উপরের বাম থেকে) বেহেলী ইউনিয়ন- অসীম তালুকদার, রতি রঞ্জন পুরকায়েস্থ, সুব্রত সামন্ত সরকার, অজিত রায়, মো. সারোয়ার হোসেন, মো. আমিনুল হক মনি; জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়ন- সাজ্জাদ মাহমুদ তালুকদার, জামিল আহমদ জুয়েল, আবুল কালাম আজাদ, মো. জসীম উদ্দিন তালুকদার; ফেনারবাঁক ইউনিয়ন- আজাদ হোসেন বাবলু, জীতেন্দ্র তালুকদার পিন্টু, বিন্দু তালুকদার, সাধন তালুকদার, জুলফিকার চৌধুরী রানা, রফিকুল ইসলাম রানা; সাচ্না বাজার ইউনিয়ন- মো. মাসুক মিয়া, সায়েম পাঠান, মো. বদিউজ্জামান বদি, ইয়াকবীর হোসেন, মকবুল আফিন্দী, কাশেম আখঞ্জী; ভীমখালী ইউনিয়ন- মো. দুলাল মিয়া, আক্তারুজ্জামান শাহ, অ্যাড. মো. আব্দুল খালেক, আক্তারুজ্জামান তালুকদার, অ্যাড. শাহীনুর রহমান; জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়ন- মো. রজব আলী, এম নবী হোসেন, মো. শহীদুল ইসলাম, মোবারক আলী তালুকদার, আলী আক্কাছ মুরাদ, মো. হাবিবুর রহমান


২নং জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান সাজ্জাদ মাহমুদ তালুকদার, উপজেলা আ’লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক জামিল আহমেদ জুয়েল, ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন, উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা আ’লীগের সহ সভাপতি আব্দুল মুকিত চৌধুরীর ছেলে ফয়সল চৌধুরী, আব্দুল হক চৌধুরী, মো. জালাল মিয়া, মো. জসীম উদ্দিন তালুকদার।
৩নং ফেনারবাঁক ইউনিয়নে সাধন তালুকদার, জীতেন্দ্র তালুকদার পিন্টু, জেলা কৃষক লীগের সদস্য সচিব বিন্দু তালুকদার, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আজাদ হোসেন বাবলু, রফিকুল ইসলাম রানা, মো. সাইদুর রহমান, জুলফিকার চৌধুরী রানা, সুইট চৌধুরী, শাহাব উদ্দিন তালুকদার রিয়াজ, সাবেক ইউপি সদস্য নূরু মিয়া, ডা. হারুনূর রশিদ, সাবেক চেয়ারম্যান মতিউর রহমান, ইউপি সদস্য আসাদ আলী, সুবোধ চন্দ্র তালুকদার।
৪নং সাচনা বাজার ইউনিয়নে মো. মাসুক মিয়া, সায়েম পাঠান, মকবুল আফিন্দী, মো. বদিউজ্জামান বদি, রেজওয়ান আহমদ আলম, কাসেম আখঞ্জী, ইয়াকবীর হোসেন।
৫নং ভীমখালী ইউনিয়নে ইউপি চেয়ারম্যান মো. দুলাল মিয়া, উপজেলা আ’লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. মো. আব্দুল খালেক, ভীমখালী ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি মো. আক্তারুজ্জামান শাহ, সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মন্নান তালুকদার, আক্তারুজ্জামান তালুকদার, অ্যাড. শাহীনুর রহমান, মো. আবু তাহের তালুকদার, মো. আমিরুল হক।
৬নং জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নে ইউপি চেয়ারম্যান মো. রজব আলী, উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক এম নবী হোসেন, প্যানেল চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মোবারক আলী তালুকদার, ইউপি সদস্য মো. হানিফ মিয়া, মো. শহীদুল ইসলাম ও আলী আক্কাছ মুরাদের নাম নির্বাচনী আলোচনায় উঠে আসছে। এ নিয়ে প্রার্থী, সমর্থক ও ভোটারদের মধ্যে বাড়তি প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
উপজেলা নির্বাচন অফিসের দায়িত্বশীলরা জানান, উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নে সর্বমোট ভোটার ১ লাখ ১৭ হাজার ৫৪ জন। এর মধ্যে বেহেলী ইউনিয়নে মোট ১৩ হাজার ৯২৯ জন, জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নে ২০ হাজার ১৩২ জন, ফেনারবাঁক ইউনিয়নে ২৫ হাজার ৪২২ জন, সাচনা বাজার ইউনিয়নে ১৭ হাজার ৯৬৮ জন, ভীমখালী ইউনিয়নে ২৩ হাজার ২২১ জন, জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নে ১৬ হাজার ৩৮২ জন ভোটার রয়েছেন। তবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গ্রামাঞ্চলে প্রচারণা শুরু হলেও নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে এখনও কোন নির্দেশনা আসেনি বলে জানিয়েছে নির্বাচন অফিস।
নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সাচনা বাজার ইউনিয়নের হরিহরপুর গ্রামের মো. উস্তার গনী বলেন, ‘নির্বাচনের হাঁকডাক মোটামুটি শুরু হইয়া গেছে। নির্বাচনে যে যোগ্য তারেই তো আমরা ভোট দিমু। এইতা নির্বাচনও দলীয় প্রতীক না থাকাটাই ভালা। তাহইলে ভোটটা জমব।’
দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনাগ্রহের কথা জানিয়ে বেহেলী ইউনিয়নের রহিমাপুর গ্রামের অঞ্জন রায় বলেন, ‘নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রতি প্রার্থীদের যে যোগ-জিজ্ঞাসা সেটা ইতিবাচক। তবে সাধারণ মানুষের সেই প্রয়োজনীয়তা যেন শুধু নির্বাচনকেন্দ্রিকই না হয়। এখন প্রার্থীরা যেভাবে জনসাধারণকে আপন ভেবে বুকে টেনে নিচ্ছেন পরবর্তীতে সেটা অব্যাহত থাকলে তা হবে সত্যিকারের জনপ্রতিনিধিত্বশীল যোগ্যতা প্রদর্শন। আর দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ভোটারদের ভোট দেওয়ার উৎসাহ কমে যাবে।’
ভীমখালী ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আক্তারুজ্জামান তালুকদার বলেন, ‘আমি গত নির্বাচনে অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলাম। এ বছরও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব। আমি করোনাকালীন দুর্যোগ, হাওর সমস্যাসহ এলাকার সামাজিক কর্মকা-ে সর্বদাই মানুষের পাশে আছি। আশা রাখি ভোটাররা আমাকে মূল্যায়ন করবে।’
জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী জামিল আহমদ জুয়েল বলেন, ‘আমি গত নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী ছিলাম। অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছি এবং দলের আভ্যন্তরীণ কোন্দল আমাকে পরাজয় বরণ করতে বাধ্য করেছে। গেল নির্বাচনে আমার প্রাপ্ত ফলাফল বিবেচনায় দল আমাকে মূল্যায়ন করবে, এমনটা প্রত্যাশা করছি।’
বেহেলী ইউপি চেয়ারম্যান অসীম তালুকদার বলেন, ‘নির্বাচন আরও প্রায় ৬ মাস বাকি। আর আমি চেয়ারম্যান যেহেতু নির্বাচনে তো আসবই। তবে অন্য প্রার্থীরা যেভাবে প্রচারণা শুরু করেছে আমি জনপ্রতিনিধিত্বশীল কর্মকা-ে ব্যস্ত থাকায় মাঠে যেতে পারছি না। আশা রাখছি বিগত দিনের কর্মকা- বিবেচনায় সাধারণ মানুষ আমাকে পুনর্বার নির্বাচিত করবে।’
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, আমাদের কমিশন থেকে এখন যে নির্দেশনা আছে সেটা পৌর নির্বাচনে প্রস্তুতির চিঠি এসেছে। ইউপি নির্বাচনের ব্যাপারে কোন নির্দেশনা নেই। তবে আগামী মার্চ থেকে ইউপি নির্বাচন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচনের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত, চিঠি কিংবা নির্দেশনা আমাদেরকে দেওয়া হয়নি।

Monday, 16 November 2020

সুনামগঞ্জে ২০ টাকার জন্য যুবক খুন |Sunamganj Live|সুনামগঞ্জ লাইভ

সুনামগঞ্জে ২০ টাকার জন্য যুবক খুন |Sunamganj Live|সুনামগঞ্জ লাইভ

 


সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের মঈনপুর গ্রামে ২০ টাকা পাওনার জেরে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে খুন করা হয়েছে। শনিবার রাতে সুরমা ইউনিয়নের মইনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম আছির উদ্দিন (২৫)। সে মঈনপুর গ্রামের মো. ফজিল হকের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে গ্রামের নিজ বাড়ির সামনে নিহত যুবক আছির উদ্দিন (২৫) দাড়িঁয়ে ছিল। তখন একই গ্রামের মুদি দোকানদার মো. ইকবাল হোসেনের ছেলে মো. হৃদয় হোসেন পাওনা ২০টাকা চাইলে নিহত আফির উদ্দিন বলছিল এখন টাকা হাতে নেই একটু পরে দিবে। এনিয়ে প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়। এসময় দোকানদারের ছেলে হৃদয় হোসেন ও তার বন্ধু মো. হাসান মিলে আছির উদ্দিনের হামলা করে। এসময় আছির উদ্দিনকে ছুরিকাঘাত করে তারা। আছির উদ্দিন সাথে সাথে মাটিতে পড়ে যায়। তাৎক্ষনিক স্থানীয়রা তাকে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি শহীদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পাওনা ২০ টাকার জন্য মঈনপুর গ্রামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে খুন করা হয়েছে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাটানো হয়েছে। ঘটনার সাথে যারা জড়িতকে আইনের আওতায় আনা হবে।

Friday, 13 November 2020

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল : ‘নাই ডাক্তার, নাই নার্স’ অবস্থা

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল : ‘নাই ডাক্তার, নাই নার্স’ অবস্থা


মাসুম হেলাল ::

প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডাক্তার নাই, নার্স নাই; নাই কর্মচারি-আয়া-ক্লিনার কিছুই – হাওর অধ্যুষিত প্রান্তিক একটি জনপদের প্রধান চিকিৎসালয় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে এমন ‘নাই’ এর আছরের কারণে বছরের পর বছর ধরে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষ।
সাম্প্রতিক সময়ে আটতলা বিশিষ্ট আকাশছোঁয়া ভবন নির্মাণ হয়েছে ঠিকই, তবে যেখানে ৫৯ জন ডাক্তার থাকার কথা সেখানে মাত্র ১৫ জন ডাক্তার জোড়াতালি দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম। আর নার্স, আয়া, পরিচ্ছন্নতাকর্মীর বেশিরভাগ পদও শূন্য হাসপাতালটিতে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রান্তিক জেলা হওয়ায় ডাক্তাররা এখানে এসে থাকতে চান না। বদলির আদেশ তামিল হওয়ার আগেই তদবির করে সেটা স্থগিত করে দেন অনেকেই। ফলে শূন্য হাসপাতাল শূন্যই থেকে যায়। এদিকে, ‘নাই’ এর আছর কাটাতে স্থানীয় ও আশপাশের জেলা থেকে ডাক্তার নিয়োগে দেওয়ার বিষয়টি অগ্রাধিকার দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে রয়েছে মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি, শিশু, নবজাতক, ডায়রিয়া ও ডায়ালাইসিস ওয়ার্ড। সবগুলো বিভাগ চালাতে ৫৯ জন ডাক্তারের পদ রয়েছে। তার মধ্যে ১০ জন বিশেষজ্ঞ, একজন আবাসিক চিকিৎসক ও দুইজন মেডিকেল অফিসার মিলিয়ে হাসপাতালটিতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৫ জন ডাক্তার।
উল্লেখ্য, ৩৯তম বিসিএস উত্তীর্ণ ১২ জন ডাক্তার নিয়োগ দেওয়া হলেও তারা বিশেষায়িত করোনা ইউনিটে কর্মরত রয়েছেন।
এদিকে, ২২৩ জন নার্সের মঞ্জুরিকৃত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১৪০ জন। আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগের প্রক্রিয়াধীন থাকায় মাত্র চারজন কর্মরত আছেন এখন।
সূত্র জানায়, সদর হাসপাতালে জরুরি বিভাগের চার জন ডাক্তারের সবগুলো পদই এখন শূন্য। প্রেষণে ডাক্তার এনে জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে জরুরি বিভাগ। রোগীদের সেবা দিতে সরকার দুটি মূল্যবান এক্স-রে মেশিন দিলেও রেডিওলজিস্ট ও রেডিওগ্রাফার না থাকায় টানা চার বছর ধরে সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।
জানা যায়, কার্ডিওলজিস্ট ডা. মোহাম্মদ হোসেন ছুটি নিয়ে গত এক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করায় হৃদরোগের যাবতীয় চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে। ফলে ৬৭ কিলোমিটার দূরের গন্তব্য সিলেটে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের।
হাসপাতালের সার্বিক অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে নাম প্রকাশ না করা শর্তে একজন ডাক্তার বলেন, লিখে কী হবে। গত ৫ বছর ধরে দেখে আসছি জনবল সংকট নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা লিখছেন, আমরাও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত বিরতিতে রিপোর্ট করছি; পরিবর্তন তো কিছুই হচ্ছে না। তাঁর মতে, প্রান্তিক জেলা হওয়ায় এখানে এসে ভাল কোন ডাক্তার থাকতেই চান না। অনেকই মাঝপথে বদলির আদেশ স্থগিত করে দিয়ে পুরনো কর্মস্থলে থেকে যান। কেউ কেউ নানা বাহানায় ছুটি নিয়ে বছরের পর বছর কাটিয়ে দেন। তাঁর মতে, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের শনির দশা কাটাতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যদি বিশেষ নজর দেন তবেই এই অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স ও জনবল সংকট দূরীকরণে আমরা কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছি, আমাদের জায়গা থেকে এর বেশি কিছু করার নেই।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সদর আসনের সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহও এ নিয়ে সংসদে একাধিকবার কথা বলেছেন। পরিস্থিতির সাময়িক উন্নতি হলেও দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না।
এমন নেতিবাচক পরিস্থিতির মাঝেও কিছুটা আশার কথা শোনালেন ডা. রফিক। তিনি বলেন, এখন আমাদের অপারেশন থিয়েটারটি সার্বক্ষণিক সচল রয়েছে। ছোটবড় সব ধরনের অপারেশন হয় এখানে। মাসে অন্তত ৩০ টি সিজারিয়ান অপারেশনও হচ্ছে।
সিভিল সার্জন ডা. শামস উদ্দিন বলেন, জনবলের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর – সবখানেই আমরা লিখছি। এই বিষয়টি সম্পূর্ণ তাদের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে।

Monday, 9 November 2020

জামালগঞ্জের নোয়াগাঁও এ সড়ক দূর্ঘটনা নিহত ১ জন |Sunamganj Live|সুনামগঞ্জ লাইভ

জামালগঞ্জের নোয়াগাঁও এ সড়ক দূর্ঘটনা নিহত ১ জন |Sunamganj Live|সুনামগঞ্জ লাইভ


 জামালগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে নোওয়াগাঁও ব্রীজের উপর অটোরিকশার সাথে মটরসাইকেলের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে নিহত ১ আহত ১ জন।জানা যায়, আজ দুপুরে ভীমখালী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার বড় ঘাগটিয়া গ্রামের ছুরত আলি মেহমান বাড়ি থেকে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে অটোরিকশায় বাড়িতে আসার সময় নোওয়াগাঁও ব্রীজের উপর মোটর সাইকেলের সাথে সংঘর্ষ হয়।

এতে ঘটনাস্থলে ছুরত আলী (৬৫) মারা যান। মটর সাইকেলের চালক রুপাবালী গ্রামের বোরহান উদ্দিন (৪৫) গুরত্বর আহত হয়ে সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

এব্যাপারে ওসি (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা খবর পেয়েছি, এখন পর্যন্ত নিহতের কেউ যোগাযোগ করেনি। যোগাযোগ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।