Showing posts with label রাজনীতি. Show all posts
Showing posts with label রাজনীতি. Show all posts

Tuesday, 4 February 2025

সাবেক এমপি মান্নানপুত্র সাদাত মান্নান ২১৩ কোটি টাকা সম্পত্তির মালিক || Sunamganj Live News

সাবেক এমপি মান্নানপুত্র সাদাত মান্নান ২১৩ কোটি টাকা সম্পত্তির মালিক || Sunamganj Live News

 


পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান। এবার তাঁরই ছেলে সাদাত মান্নানের প্রায় ২১৩ কোটি টাকার সম্পদ শনাক্ত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি)। দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।


এনবিআর সূত্রে গেছে, বনানীর সাতটি অ্যাপার্টমেন্টসহ কৃষি ও অকৃষি সম্পত্তি মিলিয়ে বাংলাদেশে সাদাতের সম্পদের মূল্য আট কোটি টাকার ওপরে। এ ছাড়া রয়েছে ১৩২ কোটি টাকার বৈদেশিক সম্পদ। দায় বাদ দেওয়ার পর তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ১৪০ কোটি টাকা।


 


সিআইসি এখন শুধু সাদাত মান্নানই নন, তাঁর বাবা এম এ মান্নান, মা জোলেখা মান্নান এবং বোন সারা মান্নানের বিষয়েও কর ফাঁকি এবং সম্পদের তথ্যের তদন্ত শুরু করেছে। এই তদন্তের অংশ হিসেবে মান্নান পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


 


নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিআইসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, সোমবার এম এ মান্নান ও তাঁর পরিবারের ব্যাংক হিসাব জব্দ করার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। সাদাত মান্নানের ১৩২ কোটি টাকার বৈদেশিক সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি সম্পদের উৎস প্রকাশ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। যদি তিনি এটি প্রদান করতে না পারেন, তাহলে পুরো সম্পদ আয় হিসেবে গণ্য হবে এবং কর প্রযোজ্য হবে।


 


মন্ত্রী হওয়ার পর এম এ মান্নানের পারিবারিক প্রেক্ষাপট স্পষ্ট করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, তাঁর স্ত্রী জোলেখা মান্নান ঢাকার একটি মহিলা কলেজের শিক্ষিকা। মেয়ে সারা একজন ডাক্তার, স্বামীর সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। তাঁর ছেলে সাদাত যুক্তরাজ্যের বার্কলেস ক্যাপিটালের (ব্যাংক) ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কাজ করেন এবং লন্ডনে থাকেন।


 


সাদাত মান্নানের কর ফাইল সিআইসিতে স্থানান্তর করার আগে কর অঞ্চল-১৫ প্রথম তদন্ত করে। কর অঞ্চল-১৫ এর কমিশনার লুত্ফুল আজিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা সাদাত মান্নানের ১০০ কোটি টাকার বেশি সম্পদের তথ্য পেয়েছি।’


 


যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাদাত মান্নানকে পাওয়া যায়নি। পরে তাঁর বাবা এম এ মান্নান নিজের বা তাঁর সন্তানদের কোনো অবৈধ সম্পদের কথা অস্বীকার করেন। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার কোনো অবৈধ সম্পদ নেই। আমার জানা মতে, আমার সন্তানদেরও নেই।’ তবে ঢাকার একটি ভবনে তাঁর ছেলের সাতটি অ্যাপার্টমেন্টের বিষয়ে নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ‘বিল্ডিংটি গত শতাব্দীর শেষের দিকে সাদাত মান্নানের মামা তৈরি করেছিলেন। তাঁরা আর দেশে থাকে না। আমার ছেলে তাঁর কাছ থেকে সাতটি অ্যাপার্টমেন্ট কিনেছে।’


 


ছেলের অর্থপাচারের মাধ্যমে বিদেশে সম্পদ অর্জনের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে যদি এনবিআরের কাছে কোনো প্রমাণ থাকে, তাহলে তারা আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। এখানে কোনো সমস্যা নেই।’


তবে এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা সন্দেহ করছি এই সম্পদ বাংলাদেশ থেকে অর্থপাচারের ফল হতে পারে। অন্যদিকে বনানীর মতো একটি এলাকায় এত কম দামে সাতটি অ্যাপার্টমেন্টের মালিক হওয়া অবাস্তব।’

সূত্র: কালেরকণ্ঠ.কম

Friday, 17 November 2023

দিরাইয়ে তফসিলকে স্বাগত জানিয়ে শোডাউন, সেতু ভেঙে খাদে পড়ে আহত ১০ 

দিরাইয়ে তফসিলকে স্বাগত জানিয়ে শোডাউন, সেতু ভেঙে খাদে পড়ে আহত ১০ 

নিজস্ব প্রতিবেদক : সুনামগঞ্জ দিরাইয়ে চামটি খালের ওপরের কাঠের সেতুটি ভেঙে পড়ে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৬-১১-২০২৩) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দিরাই পৌর শহরের নিকটবর্তী চান্দপুর স্লুইসগেট সংলগ্ন এই সেতুটি ভেঙে পড়ায় উপজেলা সদরের সঙ্গে করিমপুর ও জগদল ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষিত তফসিলকে স্বাগত জানিয়ে দিরাই শাল্লা আসনে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপকমিটির সাবেক সদস্য ড. সামছুল হক চৌধুরীর অনুসারীরা মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করে। শোভাযাত্রাটি জগদল ইউনিয়ন ঘুরে করিমপুর ইউনিয়নের চান্দপুর গ্রাম হয়ে উপজেলা সদরে আসছিল। সেতুটি অতিক্রম করার সময়ে হঠাৎ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। এতে সেতুতে থাকা পথচারী ও শোভাযাত্রায় অংশ নেয়া আওয়ামী লীগের কয়েকজন কর্মী মোটরসাইকেলসহ খাদে পড়ে আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।
দিরাই হাসপাতাল সূত্র জানায়, সেতু ভেঙে দূর্ঘটনায় আহত ৫ জন সেখানে চিকিৎসা নিয়েছেন। এঁরা হলেন, নগদীপুর গ্রামের গৌছ মিয়ার ছেলে জুবায়ের (২০), রুবেল মিয়ার ছেলে লোকমান (২০), টুক দিরাই গ্রামের মহাকান্ত পালের ছেলে প্রিন্স পাল (১৮), করিমপুর গ্রামের ইসমাইল মিয়ার ছেলে লুৎফর রহমান (৬০) এবং উত্তর চান্দপুর গ্রামের সেলিম আহমেদের শিশু কন্যা ফারিহা (৯)।
আহত লুৎফর রহমান বলেন, আমার নাতনি ফারিহাকে নিয়ে আমার বাড়ি থেকে ওদের বাড়ি উত্তর চান্দপুর গ্রামে যাচ্ছিলাম। আমরা হেঁটে ব্রীজ পাড় হচ্ছি। এমন সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল মিছিল নিয়ে ব্রীজে ওঠলে ব্রীজটি ভেঙে পড়ে। আমার নাতনিসহ নিচে পড়ে যাই। আমার পা ভেঙে গেছে। নাতনিও জখম হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ড. সামছুল হক চৌধুরী বলেন, আমার শোভাযাত্রাটি জগদল ইউনিয়ন ঘুরে উপজেলা সদরে আসছিলো। পথিমধ্যে এ দূর্ঘটনা ঘটে। তিনি এমন সেতু এলাকায় থাকায় বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, আমি ঢাকায় আছি। ফোনে বলে দিয়েছি, আহতদের সবাইকে যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২২ সালের বন্যায় দিরাইয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষতি হয়। ওই সময়ে ক্রিশ্চিয়ান এইডের সহায়তায় (এনজিও) উত্তরণ ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে চান্দপুর গ্রামের চামটি খালের ওপর ও দিরাই-রজনীগঞ্জ সড়কের জয়নগর অংশে দুটি কাঠের সেতু নির্মাণ করে। ৫৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৮ফুট প্রস্থ করে একই পরিমাপে নির্মিত সেতু দুটির পিলার হিসেবে গাছের মূল ব্যবহার করা হয়। পাটাতন দেয়া হয় কাঠের তক্তা। ২০২২ সালের ৭ সেপ্টেম্বর সেতু দুটির উদ্বোধন করেন দিরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুর রহমান মামুন ও করিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লিটন চন্দ্র দাস। নির্মাণের ১ বছরের মাথায় সেতুটি ভেঙে পড়ে।

Friday, 25 February 2022

সিলিং ফ্যানে ঝুলছিল দিরাইয়ের রনদীরের মরদেহ, বিছানায় চিরকুট- Sunamganj Live

সিলিং ফ্যানে ঝুলছিল দিরাইয়ের রনদীরের মরদেহ, বিছানায় চিরকুট- Sunamganj Live


 নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় একটি ভাড়া বাসা থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দিরাইয়ের রনদীর তালুকদারের (৩৪) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়। তাতে লেখা ছিল, ‘আমার মৃত্যুর জন্য ম্যানেজার দায়ী।’

বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে পুলিশ ঝুলন্ত মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে কোনো এক সময়ে আত্মহত্যার ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

রাতে দুর্গাপুর থানার পরিদর্শক (ওসি-তদন্ত) মীর মাহাবুবুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ এবং বিছানায় পড়ে থাকা চিরকুটটি উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

এদিকে পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার শমিপুর গ্রামের মৃত কৃষ্ণধন তালুকদারের ছেলে রনদীর তালুকদার। তিনি দুর্গাপুর উপজেলার বাকলজোড়া ইউনিয়নের কুমুদগঞ্জ শাখায় একটি এনজিওর মাঠকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। তিনি ওই ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের বাচ্চু মিয়ার বাসায় ভাড়া থাকতেন। প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে বৃহস্পতিবার বিকেলে বাসায় আসেন রনদীর। এরপর সন্ধ্যার দিকে পাশের বাসার একজন তার ঘরে এসে দেখতে পান রনদীর মরদেহ ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে। এ সময় তিনি চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা ছুটে এসে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

Wednesday, 29 September 2021

কাঠইর ইউপিতে জন্মনিবন্ধন সনদ নিতে এসে ধর্ষণের শিকার হলেন প্রবাসীর স্ত্রী - Sunamganj Live

কাঠইর ইউপিতে জন্মনিবন্ধন সনদ নিতে এসে ধর্ষণের শিকার হলেন প্রবাসীর স্ত্রী - Sunamganj Live





স্টাফ রিপোর্টার:
কাঠইর ইউপিতে জন্মনিবন্ধন সনদ নিতে এসে ধর্ষণের শিকার হলেন এক প্রবাসীর স্ত্রী। জানা যায়, সদর উপজেলার কাঠইর ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামের এক প্রবাসীর স্ত্রী বছর খানেক আগে সন্তানের জন্মনিবন্ধনের সনদপত্র আনতে স্থানীয় শাখাইতি পয়েন্টে ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয়ে যান। এসময় পরিচয় হয় ইউপি চেয়ারম্যান মুফতি শামছুল ইসলামের ব্যক্তিগত সহকারী নুতন শাখাইতি গ্রামের হবিবুর রহমানের ছেলে আশরাফ উদ্দিনের সাথে। জন্মনিবন্ধন সনদ দেই দিচ্ছি বলে প্রবাসীর স্ত্রীকে আসা-যাওয়া করতে বাধ্য করে বখাটে আশরাফ। এক পর্যায়ের তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সুনামগঞ্জ শহরের একটি ট্রাভেল্স সহ তাহিরপুরের শিমুলবাগান, আবাসিক হোটেলসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। সম্প্রতি বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে এলাকার পাঁচ গ্রামের মুরুব্বিরা সামাজিক ভাবে একাধিক বৈঠক করেন। এলাকার পঞ্চায়াতের সভাপতি হাজী ইসমাইল আলী জানান, আমরা বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক করেছি । বৈঠকে ধর্ষক আশরাফ উদ্দিনের লোকজন দায় শিকার করে ক্ষমা চাওয়ার প্রেক্ষিতে ৪ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে প্রবাসীর স্ত্রীকে আশরাফ উদ্দিনের কাছে বিয়ের দেয়ার সিদ্ধান্ত হয় । এলাকার পঞ্চায়েতের রায় অমান্য করায় ধর্ষক আশরাফ উদ্দিনের বিরোদ্ধে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রবাসীর স্ত্রী জানান, আমাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ করেছে আশরাফ। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে সালিশ বৈঠক হয়। কিন্তু কোন সুরাহা হয়নি। সে যদি আমাকে বিয়ে না করে তার বিরোদ্ধে আইনি আশ্রয় নেব। স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল গফুর জানান, আশরাফ উদ্দিন ইউপি চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারী। সে একটি পরিবারকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আমি ধর্ষকের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি চাই। কাঠইর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুফতি শামছুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি সঠিক। আশরাফ পঞ্চায়েতের রায়ও মানছে না। আমি অন্যায়কারীর দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবি করছি।

Thursday, 14 January 2021

দ: সুনামগঞ্জে বিলের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ: নিহত-১

দ: সুনামগঞ্জে বিলের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ: নিহত-১

 


স্টাফ রিপোর্টারঃ দক্ষিণ সুনামগঞ্জের শিমুলবাঁক ইউনিয়নে তেরহাল গ্রামে ধামাইল বিলের মালিকানা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই মৎস্যজীবী সমিতির মধ্যে সংর্ষের ঘটনায় জয়নুদ্দিন (৬০) নামে  একজন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তি তেরয়াল গ্রামের তেরয়াল আদর্শ মৎস্যজীবী সমিতির সদস্য।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে শিমুলবাঁক ইউনিয়নের ধামাইল বিলের মালিকানা নিয়ে স্থানীয় দুইটি মৎস্যজীবী সমিতির মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার(১৪ জানুয়ারি) ভোরে রাতে বিলের কর্তৃত্ব নিয়ে তেরয়াল মৎস্যজীবী সমিতির আব্দুস সালামের গ্রুপ ও তেরহাল আদর্শ মৎস্যজীবী সমিতির শহীদ-মোশাহিদ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। প্রায় ঘণ্টাখানেক সময় ধরে এই সংঘর্ষে দুই পক্ষের প্রায় অর্ধশত লোক আহত হয়। গুরুতর আহত জয়নুদ্দিনকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সংঘর্ষের খবর পেয়ে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে  যায় এবং এই ঘটনায় সম্পৃক্ত দুই পক্ষের ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার ওসি কাজী মোক্তাদির হোসেন বলেন, শিমুলবাঁক ইউনিয়নে জলমহাল নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে জইনুদ্দিন নামে ১ জন নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন  রয়েছে। পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Thursday, 19 November 2020

জামালগঞ্জে অর্ধশতাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম আলোচনায় |Sunamganj Live|সুনামগঞ্জ লাইভ

জামালগঞ্জে অর্ধশতাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম আলোচনায় |Sunamganj Live|সুনামগঞ্জ লাইভ


 বিশ্বজিত রায়, জামালগঞ্জ

জামালগঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আগেভাগেই শুরু হয়েছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের জোর প্রচার-প্রচারণা। উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশতাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনও ঠিক না হলেও প্রার্থীরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকা ঘুরে নিজেদের প্রার্থীতার জানান দিচ্ছেন। এ নিয়ে উপজেলার প্রতিটি গ্রাম ও হাট-বাজারে নির্বাচনী আলাপচারিতা ও চায়ের আড্ডা শুরু হয়েছে। আগামী মার্চ-এপ্রিল নাগাদ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছে উপজেলা নির্বাচন অফিস।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের গেল দুর্গোৎসবে অধিকাংশ চেয়ারম্যান প্রার্থীই নিজ এলাকার পুজোম-প পরিদর্শনের পাশাপাশি ব্যানার-ফেস্টুন টানিয়ে নির্বাচনে নিজেদের ইচ্ছার কথা তুলে ধরেছেন। প্রার্থীদের এই দৌড়ঝাঁপ ভোটাররা ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বরাদ্দের ব্যাপারটিতে অনাগ্রহের কথাই জানিয়েছে সিংহভাগ মানুষ। দলীয় মনোনয়নে নির্বাচন হলে তা নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক হবে না বলেও মত দিয়েছেন তারা। তবে দলীয় প্রতীক ভাগিয়ে এনে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাইছে সরকার দল সমর্থিত প্রার্থীরা। অপরদিকে বিএনপি ঘরানার প্রার্থীরাও দলীয় পরিচয় গোপন রেখে নিজেদের নির্বাচনী কাতারে নিয়ে আসছেন বলে জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে প্রায় অর্ধ শতাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম নির্বাচনী আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে ১নং বেহেলী ইউনিয়নে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান অসীম তালুকদার, মো. সারোয়ার হোসেন, রতি রঞ্জন পুরকায়স্থ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল হকের ছেলে মো. আমিনুল হক মনি, সুনামগঞ্জ জেলা যুবলীগের কার্যকরি কমিটির সদস্য, সাবেক ছাত্রনেতা সবুজ কান্তি দাস, ইউপি সদস্য অজিত রায় ও সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক সুব্রত সামন্ত সরকার ।
(উপরের বাম থেকে) বেহেলী ইউনিয়ন- অসীম তালুকদার, রতি রঞ্জন পুরকায়েস্থ, সুব্রত সামন্ত সরকার, অজিত রায়, মো. সারোয়ার হোসেন, মো. আমিনুল হক মনি; জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়ন- সাজ্জাদ মাহমুদ তালুকদার, জামিল আহমদ জুয়েল, আবুল কালাম আজাদ, মো. জসীম উদ্দিন তালুকদার; ফেনারবাঁক ইউনিয়ন- আজাদ হোসেন বাবলু, জীতেন্দ্র তালুকদার পিন্টু, বিন্দু তালুকদার, সাধন তালুকদার, জুলফিকার চৌধুরী রানা, রফিকুল ইসলাম রানা; সাচ্না বাজার ইউনিয়ন- মো. মাসুক মিয়া, সায়েম পাঠান, মো. বদিউজ্জামান বদি, ইয়াকবীর হোসেন, মকবুল আফিন্দী, কাশেম আখঞ্জী; ভীমখালী ইউনিয়ন- মো. দুলাল মিয়া, আক্তারুজ্জামান শাহ, অ্যাড. মো. আব্দুল খালেক, আক্তারুজ্জামান তালুকদার, অ্যাড. শাহীনুর রহমান; জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়ন- মো. রজব আলী, এম নবী হোসেন, মো. শহীদুল ইসলাম, মোবারক আলী তালুকদার, আলী আক্কাছ মুরাদ, মো. হাবিবুর রহমান


২নং জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান সাজ্জাদ মাহমুদ তালুকদার, উপজেলা আ’লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক জামিল আহমেদ জুয়েল, ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন, উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা আ’লীগের সহ সভাপতি আব্দুল মুকিত চৌধুরীর ছেলে ফয়সল চৌধুরী, আব্দুল হক চৌধুরী, মো. জালাল মিয়া, মো. জসীম উদ্দিন তালুকদার।
৩নং ফেনারবাঁক ইউনিয়নে সাধন তালুকদার, জীতেন্দ্র তালুকদার পিন্টু, জেলা কৃষক লীগের সদস্য সচিব বিন্দু তালুকদার, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আজাদ হোসেন বাবলু, রফিকুল ইসলাম রানা, মো. সাইদুর রহমান, জুলফিকার চৌধুরী রানা, সুইট চৌধুরী, শাহাব উদ্দিন তালুকদার রিয়াজ, সাবেক ইউপি সদস্য নূরু মিয়া, ডা. হারুনূর রশিদ, সাবেক চেয়ারম্যান মতিউর রহমান, ইউপি সদস্য আসাদ আলী, সুবোধ চন্দ্র তালুকদার।
৪নং সাচনা বাজার ইউনিয়নে মো. মাসুক মিয়া, সায়েম পাঠান, মকবুল আফিন্দী, মো. বদিউজ্জামান বদি, রেজওয়ান আহমদ আলম, কাসেম আখঞ্জী, ইয়াকবীর হোসেন।
৫নং ভীমখালী ইউনিয়নে ইউপি চেয়ারম্যান মো. দুলাল মিয়া, উপজেলা আ’লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. মো. আব্দুল খালেক, ভীমখালী ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি মো. আক্তারুজ্জামান শাহ, সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মন্নান তালুকদার, আক্তারুজ্জামান তালুকদার, অ্যাড. শাহীনুর রহমান, মো. আবু তাহের তালুকদার, মো. আমিরুল হক।
৬নং জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নে ইউপি চেয়ারম্যান মো. রজব আলী, উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক এম নবী হোসেন, প্যানেল চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মোবারক আলী তালুকদার, ইউপি সদস্য মো. হানিফ মিয়া, মো. শহীদুল ইসলাম ও আলী আক্কাছ মুরাদের নাম নির্বাচনী আলোচনায় উঠে আসছে। এ নিয়ে প্রার্থী, সমর্থক ও ভোটারদের মধ্যে বাড়তি প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
উপজেলা নির্বাচন অফিসের দায়িত্বশীলরা জানান, উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নে সর্বমোট ভোটার ১ লাখ ১৭ হাজার ৫৪ জন। এর মধ্যে বেহেলী ইউনিয়নে মোট ১৩ হাজার ৯২৯ জন, জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নে ২০ হাজার ১৩২ জন, ফেনারবাঁক ইউনিয়নে ২৫ হাজার ৪২২ জন, সাচনা বাজার ইউনিয়নে ১৭ হাজার ৯৬৮ জন, ভীমখালী ইউনিয়নে ২৩ হাজার ২২১ জন, জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নে ১৬ হাজার ৩৮২ জন ভোটার রয়েছেন। তবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গ্রামাঞ্চলে প্রচারণা শুরু হলেও নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে এখনও কোন নির্দেশনা আসেনি বলে জানিয়েছে নির্বাচন অফিস।
নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সাচনা বাজার ইউনিয়নের হরিহরপুর গ্রামের মো. উস্তার গনী বলেন, ‘নির্বাচনের হাঁকডাক মোটামুটি শুরু হইয়া গেছে। নির্বাচনে যে যোগ্য তারেই তো আমরা ভোট দিমু। এইতা নির্বাচনও দলীয় প্রতীক না থাকাটাই ভালা। তাহইলে ভোটটা জমব।’
দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনাগ্রহের কথা জানিয়ে বেহেলী ইউনিয়নের রহিমাপুর গ্রামের অঞ্জন রায় বলেন, ‘নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রতি প্রার্থীদের যে যোগ-জিজ্ঞাসা সেটা ইতিবাচক। তবে সাধারণ মানুষের সেই প্রয়োজনীয়তা যেন শুধু নির্বাচনকেন্দ্রিকই না হয়। এখন প্রার্থীরা যেভাবে জনসাধারণকে আপন ভেবে বুকে টেনে নিচ্ছেন পরবর্তীতে সেটা অব্যাহত থাকলে তা হবে সত্যিকারের জনপ্রতিনিধিত্বশীল যোগ্যতা প্রদর্শন। আর দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ভোটারদের ভোট দেওয়ার উৎসাহ কমে যাবে।’
ভীমখালী ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আক্তারুজ্জামান তালুকদার বলেন, ‘আমি গত নির্বাচনে অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলাম। এ বছরও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব। আমি করোনাকালীন দুর্যোগ, হাওর সমস্যাসহ এলাকার সামাজিক কর্মকা-ে সর্বদাই মানুষের পাশে আছি। আশা রাখি ভোটাররা আমাকে মূল্যায়ন করবে।’
জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী জামিল আহমদ জুয়েল বলেন, ‘আমি গত নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী ছিলাম। অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছি এবং দলের আভ্যন্তরীণ কোন্দল আমাকে পরাজয় বরণ করতে বাধ্য করেছে। গেল নির্বাচনে আমার প্রাপ্ত ফলাফল বিবেচনায় দল আমাকে মূল্যায়ন করবে, এমনটা প্রত্যাশা করছি।’
বেহেলী ইউপি চেয়ারম্যান অসীম তালুকদার বলেন, ‘নির্বাচন আরও প্রায় ৬ মাস বাকি। আর আমি চেয়ারম্যান যেহেতু নির্বাচনে তো আসবই। তবে অন্য প্রার্থীরা যেভাবে প্রচারণা শুরু করেছে আমি জনপ্রতিনিধিত্বশীল কর্মকা-ে ব্যস্ত থাকায় মাঠে যেতে পারছি না। আশা রাখছি বিগত দিনের কর্মকা- বিবেচনায় সাধারণ মানুষ আমাকে পুনর্বার নির্বাচিত করবে।’
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, আমাদের কমিশন থেকে এখন যে নির্দেশনা আছে সেটা পৌর নির্বাচনে প্রস্তুতির চিঠি এসেছে। ইউপি নির্বাচনের ব্যাপারে কোন নির্দেশনা নেই। তবে আগামী মার্চ থেকে ইউপি নির্বাচন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচনের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত, চিঠি কিংবা নির্দেশনা আমাদেরকে দেওয়া হয়নি।

Friday, 13 November 2020

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল : ‘নাই ডাক্তার, নাই নার্স’ অবস্থা

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল : ‘নাই ডাক্তার, নাই নার্স’ অবস্থা


মাসুম হেলাল ::

প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডাক্তার নাই, নার্স নাই; নাই কর্মচারি-আয়া-ক্লিনার কিছুই – হাওর অধ্যুষিত প্রান্তিক একটি জনপদের প্রধান চিকিৎসালয় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে এমন ‘নাই’ এর আছরের কারণে বছরের পর বছর ধরে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষ।
সাম্প্রতিক সময়ে আটতলা বিশিষ্ট আকাশছোঁয়া ভবন নির্মাণ হয়েছে ঠিকই, তবে যেখানে ৫৯ জন ডাক্তার থাকার কথা সেখানে মাত্র ১৫ জন ডাক্তার জোড়াতালি দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম। আর নার্স, আয়া, পরিচ্ছন্নতাকর্মীর বেশিরভাগ পদও শূন্য হাসপাতালটিতে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রান্তিক জেলা হওয়ায় ডাক্তাররা এখানে এসে থাকতে চান না। বদলির আদেশ তামিল হওয়ার আগেই তদবির করে সেটা স্থগিত করে দেন অনেকেই। ফলে শূন্য হাসপাতাল শূন্যই থেকে যায়। এদিকে, ‘নাই’ এর আছর কাটাতে স্থানীয় ও আশপাশের জেলা থেকে ডাক্তার নিয়োগে দেওয়ার বিষয়টি অগ্রাধিকার দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে রয়েছে মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি, শিশু, নবজাতক, ডায়রিয়া ও ডায়ালাইসিস ওয়ার্ড। সবগুলো বিভাগ চালাতে ৫৯ জন ডাক্তারের পদ রয়েছে। তার মধ্যে ১০ জন বিশেষজ্ঞ, একজন আবাসিক চিকিৎসক ও দুইজন মেডিকেল অফিসার মিলিয়ে হাসপাতালটিতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৫ জন ডাক্তার।
উল্লেখ্য, ৩৯তম বিসিএস উত্তীর্ণ ১২ জন ডাক্তার নিয়োগ দেওয়া হলেও তারা বিশেষায়িত করোনা ইউনিটে কর্মরত রয়েছেন।
এদিকে, ২২৩ জন নার্সের মঞ্জুরিকৃত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১৪০ জন। আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগের প্রক্রিয়াধীন থাকায় মাত্র চারজন কর্মরত আছেন এখন।
সূত্র জানায়, সদর হাসপাতালে জরুরি বিভাগের চার জন ডাক্তারের সবগুলো পদই এখন শূন্য। প্রেষণে ডাক্তার এনে জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে জরুরি বিভাগ। রোগীদের সেবা দিতে সরকার দুটি মূল্যবান এক্স-রে মেশিন দিলেও রেডিওলজিস্ট ও রেডিওগ্রাফার না থাকায় টানা চার বছর ধরে সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।
জানা যায়, কার্ডিওলজিস্ট ডা. মোহাম্মদ হোসেন ছুটি নিয়ে গত এক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করায় হৃদরোগের যাবতীয় চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে। ফলে ৬৭ কিলোমিটার দূরের গন্তব্য সিলেটে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের।
হাসপাতালের সার্বিক অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে নাম প্রকাশ না করা শর্তে একজন ডাক্তার বলেন, লিখে কী হবে। গত ৫ বছর ধরে দেখে আসছি জনবল সংকট নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা লিখছেন, আমরাও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত বিরতিতে রিপোর্ট করছি; পরিবর্তন তো কিছুই হচ্ছে না। তাঁর মতে, প্রান্তিক জেলা হওয়ায় এখানে এসে ভাল কোন ডাক্তার থাকতেই চান না। অনেকই মাঝপথে বদলির আদেশ স্থগিত করে দিয়ে পুরনো কর্মস্থলে থেকে যান। কেউ কেউ নানা বাহানায় ছুটি নিয়ে বছরের পর বছর কাটিয়ে দেন। তাঁর মতে, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের শনির দশা কাটাতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যদি বিশেষ নজর দেন তবেই এই অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স ও জনবল সংকট দূরীকরণে আমরা কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছি, আমাদের জায়গা থেকে এর বেশি কিছু করার নেই।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সদর আসনের সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহও এ নিয়ে সংসদে একাধিকবার কথা বলেছেন। পরিস্থিতির সাময়িক উন্নতি হলেও দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না।
এমন নেতিবাচক পরিস্থিতির মাঝেও কিছুটা আশার কথা শোনালেন ডা. রফিক। তিনি বলেন, এখন আমাদের অপারেশন থিয়েটারটি সার্বক্ষণিক সচল রয়েছে। ছোটবড় সব ধরনের অপারেশন হয় এখানে। মাসে অন্তত ৩০ টি সিজারিয়ান অপারেশনও হচ্ছে।
সিভিল সার্জন ডা. শামস উদ্দিন বলেন, জনবলের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর – সবখানেই আমরা লিখছি। এই বিষয়টি সম্পূর্ণ তাদের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে।

Monday, 19 October 2020

লড়াই হবে নৌকা ধানের শীষে |Sunamganj Live| সুনামগঞ্জ লাইভ

লড়াই হবে নৌকা ধানের শীষে |Sunamganj Live| সুনামগঞ্জ লাইভ


 বিশ্বজিত রায়, জামালগঞ্জ

জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচন আগামীকাল (মঙ্গলবার)। এই উপজেলার নির্বাচনী প্রচারণা শেষ মূহূর্তে উৎসবমূখর হয়ে ওঠে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে জেলা নেতৃবৃন্দ প্রচারণায় যুক্ত হওয়ায় এখানকার ভোটের লড়াইও নৌকা ও ধানের শীষের মধ্যেই হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা। অর্থাৎ আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইকবাল আল আজাদ ও বিএনপি’র প্রার্থী নূরুল হক আফিন্দী’র মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমেছে।
তবে বিএনপির আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী মাসুম মাহমুদ তালুকদারও শেষমেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ওঠে আসবেন বলে দাবি তার সমর্থকদের। অবশ্য তার আপন চাচা ফয়জুল আলম তালুকদার মোহন প্রার্থী থাকায় বেকায়দায় মাসুম।
আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক ইকবাল আল আজাদ প্রয়াত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আল আজাদের জ্যেষ্ঠ পুত্র। তিনি ভোটের মাঠে পিতার আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তাকে প্রচারণায় কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছেন।
ইকবাল আল আজাদের নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্র ও জেলা নেতারা।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি নূরুল হুদা মুকুট, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন, সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত্, তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খায়রুল হুদা চপল এবং সাবেক ছাত্রনেতা শাহরিয়ার চৌধুরী বিপ্লব সহ জেলা-উপজেলা পর্যায়ের বিপূল সংখ্যক নেতাকর্মী শেষের দিকে ইকবাল আল আজাদের নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত ছিলেন।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নূরুল হক আফিন্দী উপজেলা বিএনপির সভাপতি। তিনি সাচনা বাজার ইউনিয়ন পরিষদের একাধিকবারের চেয়ারম্যান। ভোটের মাঠের শক্তিশালী এই প্রতিদ্বন্দ্বির পক্ষেও মাঠ চষে বেড়িয়েছেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, সাবেক সংসদ সদস্য নজির হোসেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নূরুল, যুক্তরাজ্য আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক হামিদুল হক আফিন্দী লিটন, জেলা যুবদলের সভাপতি আবুল মনসুর শওকতসহ অনেকে।
এছাড়া বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মাসুম মাহমুদ তালুকদারও তার বাবা সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শামসুল আলম তালুকদার ঝুনুর পরিচয় তুলে ধরে ঘুরেছেন ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে।
প্রচারণার শেষ দিনে প্রার্থী ও সংশ্লিষ্টরা সুষ্ঠু, সুন্দর ভোটের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
আওয়ামী লীগ প্রার্থী ইকবাল আল আজাদ বললেন, ‘আমার বাবা দীর্ঘদিন জনগণের পাশে ছিলেন। নিঃস্বার্থভাবে তিনি মানুষের সেবা করে গেছেন। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী বাবার যোগ্য উত্তরসুরী মনে করে মানুষ আমাকে ভোট দেবেন বলেই আমার প্রত্যাশা। বর্তমান সরকারের সময়কালে জামালগঞ্জের হাওরের পাড়ে পাড়ে উন্নয়নের ঢেউ লেগেছে। ভোটারগণ এই সুবাতাস ধরে রাখার চেষ্টা করবেন। জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতীক, উন্নয়নের প্রতীক নৌকার বিজয় নিশ্চিতে আমি ভোটারদের সহযোগিতা চাই।’
বিএনপি প্রার্থী নূরুল হক আফিন্দী বলেন, ‘সাধারণ মানুষের মাঝে ভোট নিয়ে একটা দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাজ করছে। আমরা পরস্পর শুনতেছি কেউ কেউ বলছেন নৌকায় ভোট দিলেও পাস, না দিলেও পাস। প্রশাসন যদি নিরপেক্ষ থাকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি সজাগ থাকে তাহলে তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে পারে। আমি বিশ্বাস করি প্রশাসন এ ব্যাপারে সজাগ থাকবেন।’
মাসুম মাহমুদ তালুকদার বলেন, ‘আমি জনগণের মনোনীত প্রার্থী। আমার নির্বাচনে আসার সাহস জনগণ দিয়েছেন। নির্বাচনের পরিবেশ এখন পর্যন্ত অনুকূলে আছে। যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয় তাহলে আমি বিজয়ী হবো।’
মাসুম মাহমুদ তালুকদারের চাচা ফয়জুল আলম মোহন বলেন, ‘জনগণের সাড়া আছে, মানুষ আমাকে পছন্দ করে, ১৪ টি গ্রাম ঐক্যজোট হয়ে আমাকে সমর্থন করেছেন। ভোট সুষ্ঠু হবে এবং আমি জয়লাভ করবো।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে, এখনো পর্যন্ত কোন কেন্দ্র থেকে এ ধরণের কোন অভিযোগ পাই নি, শুনাও যায় নি। আশা করি সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’
আগামীকাল ২০ অক্টোবর জামালগঞ্জের উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচনে ৪৬ টি কেন্দ্রে ১ লাখ ১৭ হাজার ৪০০ ভোটার ভোট প্রয়োগ করবে।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি এই উপজেলা পরিষদের ৩ বারের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আল আজাদ মৃত্যুবরণ করায় এখানকার উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

Wednesday, 14 October 2020

জামালগঞ্জ উপজেলা উপনির্বাচন - ট্রাম কার্ড ভীমখালী ইউনিয়ন |Sunamganj Live

জামালগঞ্জ উপজেলা উপনির্বাচন - ট্রাম কার্ড ভীমখালী ইউনিয়ন |Sunamganj Live


আগামী ২০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে জামালগঞ্জ উপজেলা উপ নির্বাচন।  সময় যতই ঘনিয়ে আসছে নির্বাচনী প্রচারনা তুঙ্গে উঠছে , তৃণমূল পর্যায়ে চলছে নির্বাচনের চুল ছেড়া বিশ্ল্লেষণ।  কথা হয় অনেক তৃণমূল নির্বাচনী বিশ্ল্লেষকদের সাথে। 
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪ জন প্রার্থী।এর মধ্যে দুইজন স্বতন্ত্র 
প্রার্থী তাও একই পরিবারের সদস্য। প্রার্থীদের নিজস্ব ইউনিয়নের বাহিরে প্রধান টার্গেট হচ্ছে বিএনপির ঘাঁটি খ্যাত ভীমখালী ইউনিয়ন।তৃণমূল নির্বাচনী বিশ্ল্লেষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় -কাস্টিং ভোটের উপর টার্গেট করে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী নুরুল হক আফিন্দি তাঁর নিজ ইউনিয়ন সাচনা বাজারের ভোট ব্যাংকে ব্যাক্তি ইমেজ ও দলীয় ভোটের হিসাব করলে দেখা যায় কাস্টিং ভোটের ৬০% ধানের শীষের ২০% নৌকার এবং ১৫% আনারসের আর ৫% ভোটে ঘোড়াতে পড়বে।  সাচনাবাজার ইউনিযনের নুরুল হক আফিন্দীর ৬০% ভোট এর মধ্যে ১০% ভোট আসবে আওয়ামীলীগের ভোটে থেকে কারন রেজাউল করিম শামীম মনোনয়ন না পাওয়ার কারনে অনেক আওয়ামীলীগের সমর্থিত শামীম অনুসারীদের ভোট চলে যাবে ধানের শীষে এমনটিই তৃণমূল বিশ্ল্লেষকদের ধারণা। 
জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের হিসাব করলে দেখা যায় এখানে আনারস ও নৌকার ভোট বেশি।  ৪০ % ভোট পাবে নৌকা, ৩০ % ভোট পাবে আনারস, ২০% ভোট পাবে ধানেরশীষ এবং ১০% ভোট পাবে ঘোড়া। জামালগঞ্জ উত্তর উনিয়নের ভোট হিসাব করলে সমান সমান ভোটে পাওয়ার আশংকা ধানেরশীষ  ৩০% , নৌকা ৩০% ,আনারস ৩০% ও ১০% % ভোট পাবে ঘোড়া (কিছুটা তারতম্য থাকবে )।  ফেনারবাক উনিয়নের ভোট বন্টন খুব গুরুত্বপূর্ণ, হিন্দু সমপ্রদায় বেশি ও বর্তমান আওয়ামীলীগ মহিলা সংরক্ষিত আসনের এমপি উক্ত ইউনিয়নের হওয়ার কারনে নৌকার ভোট ব্যাংক সব চাইতে বেশি।    ফেনারবাক উনিয়নের ভোট হিসাব করলে দেখা যায় ৫০% ভোট নৌকার , ৩০% ভোট ধানের শীষের , ১৫%ভোট আনারসের ও ৫% ভোট ঘোড়ার। বেহেলী ইউনিয়নেও রয়েছে ধানের শীষ ও নৌকার সমান ভোট তবে এখানেও নৌকার কিছু ভোট এসে ধানের শীষে যুক্ত হবে , এতে ধানের শীষ ৫০% , নৌকা ৪০% , আনারস ১০% ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা  আছে। ভীমখালী ইউনিয়ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হট পয়েন্ট স্বভাবজাত কারণে বিএনপির ভোট ব্যংক এই উনিয়নের , ২য় স্থানে রয়েছে আওয়ামীলীগ।  ভীমখালী ইউনিয়নে কট্টর আওয়ামীলীগের  পরিমান কম হলেও নব্য আওয়ামীলীগ এর সংখ্যা বেড়েছে তবে রেজাউল  করিম শামীমের অনুসারীদের ভোট আওয়ামীলীগের ব্যাংকে যাবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।  উক্ত ভোট গুলো চলে যেতে পারে ধানের শীষ ও আনারসে যদি তাই হয় তাহলে ভীমখালী ইউনিয়নে সবচেয়ে কম ভোট পাবে নৌকা।  এখানে হিসাব করলে দেখা যায় কাস্টিং ভোটের ৫০% ভোট পাবে ধানের শীষ ,  ২৫% ভোট পাবে আনারস , ২০% ভোট পাবে নৌকা ও ৫% ভোট পাবে গোড়া। তৃণমূল পর্যায়ের নেতা কর্মীদের সাথে কথা বলে এমন হিসাবই পাওয়া যায়। গড় হিসাব করলে দেখা যায় ধানের শীষ বিপুল ভোটে নির্বাচনে জয় লাভ করবে। তবে জগন্নাথপুর পৌরসভা উপনির্বাচনের হাল চিত্র লক্ষ্য করলে দেখা যায় প্রশাসনিক প্রভাবে নৌকা পাশ করে।  এরকম যদি নিরপেক্ষ নির্বাচন না হয় তাহলে কোনো  হিসাবেই কাজ হবে না -নৌকারই জয় হবে। 
তবে ভীমখালী ইউনিয়নের নির্বাচনী হিসাব নিয়ে এখনো ধুয়াঁশা রয়ে গেছে প্রত্যেক প্রার্থীরই টার্গেট ভীমখালী ইউনিয়ন , বিশ্ল্লেষকদর মতে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ভীমখালী ইউনিয়নে যে প্রাথী সবচেয়ে বেশি ভোট পাবে তাঁরই জয়ের আশংখা বেশি।  সব প্রার্থীরই টার্গেট এখন এই হট পয়েন্ট।  তাই নির্বাচনী প্রচারনার দৌড়ঝাঁপ ভীমখালী ইউনিয়নেই বেশি।  উপরোক্ত বিশ্ল্লেষণ শুধু মাত্র একটি ধারণা ভিত্তিক বিশ্ল্লেষণ। 

লেখক : আরিফ মাহফুজ , সাংবাদিক -কলামিস্ট।

Thursday, 8 October 2020

কালো পতাকা মিছিল: আরিফ মাহফুজ |Sunamganj Live|সুনামগঞ্জ লাইভ

কালো পতাকা মিছিল: আরিফ মাহফুজ |Sunamganj Live|সুনামগঞ্জ লাইভ


নির্বাক আর কিংকর্তব্য বিমূঢ় অবস্থায় কাটছে দিনগুলো।  প্রশ্ন জাগে এটাই কি আমার দেশ ? এটাই কি আমার জন্মভূমি ? প্রতিদিনই ফেইসবুক ওয়ালে পোষ্ট দিতে চাই কিন্তু পারি না।  ফেইসবুক এর পোষ্ট অপশন জিজ্ঞেস করে 'হোয়াটস ইন ইওর মাইন্ড ' -তাকে বলি আমার মাইন্ডে তো অনেক কিছুই আছে  কিন্তু তুমার বক্সে লিখতে পারিনা , লিখলে অনেকেই মাইন্ড করবে।  সব কি আর লিখা যায় ? না যায় না , কিছু ধূসর রয়ে গেছে সমাজে যাদের জন্য কলমও অনেক সময় থমকে যায়। লিখতে গিয়েও লিখিনা।  সামাজিক দায়বদ্ধতা প্রচন্ড ভাবে দংশন করে প্রতিনিয়ত।  বাধ্য করে দেয় কলম ধরতে।  একের পর এক গণধর্ষনের মত ন্যাক্কার জনক ঘটনা ঘটছে  দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। নারীর প্রতি কেন এই সহিংসতা ? ধর্ষনের রঙ্গ মঞ্চ আজকের বাংলাদেশ। ধর্ষনের হিড়িক যা ইতি পূর্বে কখনোই দেখা যাই না শুধু ১৯৭১ সাল ব্যাতীত।  ১৯৭১ সালে ধর্ষন  করেছে পাকিস্তানি সেনারা আর সাথে ছিল গাদ্দার কিছু পিচাশ অমানুষ যাদেরকে আমরা রাজাকার বলি।  রাজাকের বিচারও এদেশে হয়েছে দলীয়করনের মধ্যেদিয়ে। যাই হউক সেদিকে গিয়ে লাভ নেই।   বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি (বিএনডব্লিউএলএ) সম্মীক্ষা মতে শুধু চলতি বছরের ধর্ষনের হিসাব দেখেই মস্তিস্ক হ্যাং হয়ে যায়।  চলতি বছরে গত আট মাসে সারা দেশে ৮৯২ টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ১৯২ টি ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে।  ৪১ জন ধর্ষণের পরে আহত অবস্থায় মারা গেছেন, ৯ জন ধর্ষণের পরে আত্মহত্যা করে মারা গেছেন বলে  জানা গেছে। ধর্ষন ছাড়াও নারী নির্যাতনের হিসাব অগনিত।  স্কুল ছাত্রী , গৃহবধূ এমনকি ৭৫ বছরে বৃদ্ধাও এর  বাহিরে নয়। ধর্ষনের আইনগত বিচার সঠিক সময়ে না হওয়ার কারনেই  ঘটনার পরিসংখ্যান দিনদিন বাড়ছে। দেশের আইন অনুযায়ী ধর্ষন মামলার বিচার  ১৮০ দিনের মধ্যে হতে হবে কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না।  ধর্ষনের বিচার ত্বরান্বিত করার জন্য নারীবাদী নেত্রীদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।  বর্তমানে ঘটেযাওয়া ধর্ষনের প্রতিবাদে সারা দেশের স্কুল-কলেজ - বিশ্বাবিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রী সহ সাধারণ মানুষ আজ রাস্তায় নেমেছে।  কিন্তু নারীবাদী নেত্রীরা চুপ করে লুকিয়ে আছেন। কিন্তু কেন ? কার ভয়ে বা কার সমর্থনে তাঁরা নিশ্চুপ এটা আজ দেশের মানুষের কাছে প্রধান প্রশ্ন।  তাহলে আজ যারা বেপরোয়া ধর্ষক তাদের সাপোর্ট করতে কি তাঁরা আজ নীরব ?  সবগুলো ধর্ষনের নায়ক আজকের ছাত্রলীগের সোনার ছেলেরা।  পেছনে রয়েছে আওয়ামী গড ফাদাররা।  সাতক্ষীরা থেকে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগীকে রক্ত জোগাড় করে দেওয়ার কথা বলে তার স্ত্রীকে ধর্ষণ, মেসের রুমের টাইলস পরিষ্কার করার কথা বলে কেরানীগঞ্জে নারীকে ধর্ষণ, খাগড়াছড়িতে ডাকাতি করতে ঘরে ঢুকে এক প্রতিবন্ধী তরুণীকে দলবেঁধে ধর্ষণ, খাগড়াছড়িতে চাকমা সম্প্রদায়ের এক নারীকে ধর্ষন , সিলেটের এমসি কলেজে গণধর্ষন , নোয়াখালীর আলোচিত ধর্ষণ সহ সবগুলো ধর্ষনেই ছাত্রলীগ কর্মীরা অভিযুক্ত। সরকারের মদদেই আজ বেপরোয়া ছাত্রলীগ-যুবলীগ। লাগামহীন দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে কারি কারী টাকা আয় করে বেসামাল তাঁরা। ক্ষমতা আর টাকার গরমে দিশেহারা।  তাঁরা না মানে প্রশাসন না মানছে পারিবারিক আদর্শ। বেশিরভাগই পিতামাতার অনুগত নয়।  ছাত্রলীগ কর্মীরা অনুগত আওয়ামীলীগ নেতাদের অনুগত।  নেতারা তাদের স্বার্থে ব্যবহার করছে ছাত্রলীগ যুবলীগ কর্মীদের। আর এসব নেতাদের আশ্রয় -পশ্রয় দিচ্ছে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের মন্ত্রী এমপিরা। সরকারের সীমাহীন দুর্নীতির চিত্র আজ ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।  শিক্ষা, চিকিৎসা ,স্বাস্থ্য ,অর্থনীতি সবক্ষেত্রে হরিলুট যার তালিকা কাগজ কলমে  ধরে না। প্রশাসনিক লেভেলেও দুর্নীতি- অনিয়ম চরম পর্যায়ে।  মানুষের জান  মালের নিরাপত্তা আমরা হারিয়েছি অনেক আগেই কিন্তু শেষ পর্যায়ে হারালাম মা-বোনদের ইজ্জতের নিরাপত্তা। যে রাষ্ট্র নারীর ইজ্জত রক্ষায় আহাজারি করছে সে রাষ্ট্রের অধিকর্তারা রাষ্ট্রের জন্য কি পদক্ষেপ নিচ্ছেন ? মন্ত্রী।,এমপি, আমলাদের বউ-বোনদের তো কোনো নিরাপত্তার অজুহাত নেই কারন তাঁদের  লালিত ছেলেরাই তো ধর্ষণে সেঞ্চুরি করছে তাই মন্ত্রী এমপিদের বউ-বোনদের নিরাপত্তা ১০০% . কিন্তু যে সাধারণ জনগণের ভোটে এমপি মন্ত্রী হলেন , যে সাধারণ নাগরিকদের টাকায় দেশ চলে ,আমলারা চলে তাঁদের জীবন ও ইজ্জতের কোনো নিৰাপত্তা নাই কেন ? বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করা হচ্চে চরম ভাবে তাই বিচার বিভাগ অসহায় তা না হলে ১৮০ দিনে যে বিছার কার্য সম্পাদন হওয়ার কথা সেটা সম্পন্ন হতে বছরের পর বছর লাগবে কেন ?  বিচারহীনতার কারণে বেড়েই চলছে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।  ''নো অ্যাকশন নো রিঅ্যাকশন '' প্রতিচ্ছবি  প্রতিফলিত হচ্ছে।  আজকে সরকার যদি সঠিক থাকতো ধর্ষণতো  দূরের কথা মেয়েদের চোখের দিকেও তাকাতে পারতো না ছাত্রলীগ।   বিচারকার্যে রাজনৈতিক প্রভাব, নৈতিকতা ও সামাজিক অবক্ষয়ও এর জন্য  সম্পূর্ণভাবে দায়ী ।  রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা  কমিয়ে , এবং বিদেশী অর্থায়নে চলা এনজিও কর্মীদের জোরালো ও সোচ্ছার ভূমিকা পালন করতে হবে এসব অপরাধ ঠেকানোর জন্য ,প্রত্যেক মানবাধিকার কর্মীকে সরকারের বন্ধনা -ভজনা ত্যাগ করতে হবে।  তবে সামাজিক দায়বদ্ধতা না এড়িয়ে প্রতিটি পরিবারের অভিভাবকদেরও দৃষ্টি দিতে হবে নিজের ছেলে সন্তানের প্রতি।  পারিবারিকভাবে নাগরিক সতর্কতা একান্ত প্রয়োজন।  ধর্ষণ যে কোনো  সময় বা যে কোনো স্থানেই হউক না কেন তার মূল্য সমান , নির্দিষ্ট কোনো স্থানের , জেলার , শহরের ধর্ষণকে ভিন্ন গুরুত্ব দেবার প্রয়োজন নেই।  নারীর সম্মান সবখানে -সবারই সমান। নোয়াখালী ও সিলেটের ধর্ষণে বিচার কঠোর হস্তে হবে বলে আমাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেছেন -এরকম আবাল মার্কা কথা একদম ঠিক না -নোয়খালী আর সিলেটের ধর্ষণ কোনো আলাদা বিষয় নয় , অন্নান্য  ধর্ষণ একই বিষয় , অপরাধ সমান।  সব ধর্ষণের অপরাধীদের দ্রুত বিচার করুন।  বিচার বিভাগকে স্বাধীন করে দিন ,আর ছাত্রলীগ -যুবলীগকে সামাল দিন তাহলেই দেখবেন সব ঠিক হয়ে গেছে।  আর না হয় আপনাদের সোনার  ছেলেদের দ্বারা হঠাৎ  দেখবেন আপনাদের    মেয়ে -বোন-বউ ধর্ষিত হয়ে গেছে।  আজ আন্তর্জাতিক গণ মাধ্যমে উঠে আসছে লোমহর্ষক গণধর্ষণের ঘটনা যা বাঙালি জাতির জন্য লজ্জা। ধর্ষণের প্রতিবাদে আজ সমস্ত জাতি ফুঁসে উঠেছে , মানুষের পিঠ আজ দেয়ালে  আটকে গেছে  , বাঙালি জাতি আবারো দেখাবে  অন্যায়ের প্রতিবাদের ফসল কিভাবে আন্তে হয়। অন্যায়ের  প্রতিবাদের ফসল আমাদের মাতৃভাষা ,  অন্যায়ের প্রতিবাদের ফসল আমাদের স্বাধীনতা।  যে যেখানে আছে কালো অন্যায়ের প্রতিবাদ করে ছিনিয়ে আনতে হবে আরেকটি ফসল -বাঁচাতে হবে আমার  বোনের ইজ্জত, আনতে আমার মা বোনদের ইজ্জতের নিরাপত্তা পতাকা . তাই কালো পতাকা মিছিল হবে -ঘরে ঘরে উঠুক কালো পতাকা , আজ বিজয়ের পতাকার সাথে থাকবে  কালোপতাকা উড্ডীয়ম্যান।  ধর্ষকদের দ্রুত বিচার না হওয়া পর্যন্ত সাধারন ছাত্র- জনতা চালাবে কালো পতাকা মিছিল।  

 লেখক : আরিফ মাহফুজ , সাংবাদিক-কলামিষ্ট , যুক্তরাজ্য থেকে।

Saturday, 3 October 2020

সিলেট নগরীতে এবার কিশোরী ‘ধর্ষিত’, এবারও অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মী

সিলেট নগরীতে এবার কিশোরী ‘ধর্ষিত’, এবারও অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মী


সিলেট এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় তোলপাড়ের মধ্যে এবার নগরের দাড়িয়াপাড়া এলাকায় এক কিশোরীকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত কিশোর নিজু আহমদ (২০) ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত বলেও জানা গেছে। ওই কিশোরী এখন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি আছে।কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গত ২৯ সেপ্টেম্বর কিশোরীকে ধর্ষণ করে ওই কিশোর।
জানা যায়, অভিযুক্ত নিজু আহমদ দাঁড়িয়াপাড়া ১৪/বি বাসার বাসিন্দা এবং মদন মোহন কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে নিজু আহমদ বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই কিশোরীকে বাসায় এনে ছাদে নিয়ে ধর্ষণ করে এবং পরের দিন তাড়িয়ে দেয়। পরে ওই কিশোরী ধর্ষণের বিষয়টি তার বাসায় জানায়।
ঘটনা জানার পর পরিবারের সদস্যরা তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করেন। এরপর রাতে ওই কিশোরীর মা নিজু আহমদকে আসামী করে সিলেট কোতয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং ৩ (০৩.১০.২০)।
এ ব্যাপারে সিলেট নগরের ২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিক্রম কর সম্রাট বলেন, আমিও এরকম একটি অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি সম্ভবত ২/৩ দিন আগে ঘটেছে। অভিযুক্ত কিশোর দাড়িয়াপাড়া এলকায় ভাড়া থাকে। আর কিশোরী নগরের আরেকটি এলাকায় থাকে।
তিনি বলেন, অভিযোগকারী কিশোরীর পরিবার আর্থিকভাবে তেমন স্বচ্ছল নয়, তাই দুদিন আগে ঘটনা ঘটলেও সম্ভবত সমঝোতার চেষ্টা করা হয়েছিলো। আবার তাদের দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিলো বলেও একটি পক্ষ দাবি করেছে। যদিও কোনো কিছুই এখন পর্যন্ত আমি নিশ্চিত নই।
সম্রাট বলেন, অভিযুক্ত কিশোর ছাত্রলীগের মিছিল-মিটিংয়ে যায় বলে শুনেছি। এখন তো সবাই-ই ছাত্রলীগ।
এ ব্যাপারে কতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম মিঞা শুক্রবার মধ্যরাতে বলেন, এরকম একটি অভিযোগ পেয়েছি। তবে বিস্তারিত কিছু এখনও জানি না। এ ব্যাপারে ওই কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৫ সেপ্টেম্বর এমসি কলেজে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হন এক তরুণী। রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্বামীর কাছ থেকে ওই তরুণীকে জোর করে তুলে নিয়ে ছাত্রাবাসে ধর্ষণ করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় কলেজের সামনে তার স্বামীকে বেঁধে রাখা হয়। এ ঘটনায় ভিকটিমের স্বামী বাদী হয়ে শাহপরান থানায় মামলা করেন। মামলায় ছাত্রলীগের ছয় নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাত আরও তিনজনকে আসামি করা হয়। এঘটনায় এখন পর্যন্ত ৮ জনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে সাইফুর রহমান, অর্জুন লস্কর ও রবিউল ইসলাম নামে তিন ছাত্রলীগ নেতা শুক্রবার (২ অক্টোবর) দায় স্বীকার করে আদলতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

Saturday, 26 September 2020

ছাত্রলীগের হাতে বিগত ১১ বছরে খুন ৩৬ মেধাবী ছাত্র|Sunamganj Live|সুনামগঞ্জ লাইভ

ছাত্রলীগের হাতে বিগত ১১ বছরে খুন ৩৬ মেধাবী ছাত্র|Sunamganj Live|সুনামগঞ্জ লাইভ


স্বাধীনতার পর দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হত্যার রাজনীতি চালু করে আওয়ামী ছাত্রলীগ। স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম রাজনৈতিক হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটায় ছাত্রলীগ। তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা শফিউল আলম প্রধান সূর্যসেন হল থেকে ধরে এনে মুহসীন হলে ৭ জন ছাত্রকে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করে। সেই থেকে শুরু যার শেষ বলি হলো বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফরহাদ। ১৯৭৪ থেকে ২০১৯ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের হাতে হত্যার শিকার হয়েছে অসংখ্য শিক্ষার্থী। বুয়েটের ছাত্র আবরার হত্যাকান্ড তারই ধারাবাহিকতা। নাগরিক সমাজের সময়ের দাবি ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করা।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত গত ১০ বছরে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খুন হয়েছেন ৩৩ জন মেধাবী ছাত্র। ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের আধিপত্য বিস্তার, সিট দখল, হল দখল নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি মূলত এসব হত্যাকান্ডের প্রধান কারণ।
ফেসবুকে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তির প্রতিবাদে নিজের মত জানানোর কারণে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় এখন তোলাপাড় আন্তর্জাতিক মহলসহ সারাদেশ। বর্বরোচিত এ হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন লাখো কোটি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী। যে স্ট্যাটাসের জেরে তাকে শিবির সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করে বুয়েটের একই হলের বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী। প্রতিটি হত্যাকান্ডের ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রথা মেনে তদন্ত কমিটি করেছিল। থানাতেও মামলা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক ডামাডোলে হারিয়ে গেছে এসব মামলা। তাই বিচারের অপেক্ষায় থাকা স্বজনদের আহাজারি কখনোই শেষ হয় না।
গণমাধ্যমে বেরিয়ে আসা সেসব হত্যাকান্ডের ঘটনাগুলো জড়ো করে দেখা যায়, গত ১০ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), বুয়েট, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ (চবি) দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে লাশ হয়েছেন ৩৩ জন শিক্ষার্থী। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জেলা কমিটিগুলোতে ছয় বছরে ছাত্রলীগ নিজেদের মধ্যে বা অন্য সংগঠনের সঙ্গে অন্তত পাঁচ শতাধিক সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। এতে শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিহত হয়েছেন ৩৩ জন। এদের মধ্যে নিজ সংগঠনের ১৬ আর বাকিরা প্রতিপক্ষ সংগঠনের নেতাকর্মী কিংবা সাধারণ শিক্ষার্থী, রয়েছে ১০ বছরের শিশু রাব্বীও। দেখা গেছে, এসব হত্যাকান্ডের অধিকাংশের বিচার হয়নি। সরকার ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে বিচার কার্যক্রম মুখথুবড়ে পড়েছে বলে মনে করেন নিহতদের আত্মীয়-স্বজনরা। বিচার না হওয়ায় অব্যাহতভাবে চলছে একের পর এক হত্যাকান্ড। ২০১২ সালে জবি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হাতে নিহত বিশ্বজিৎ দাসের বড় ভাই উত্তম দাস গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনাগুলোর সঠিক বিচার হলে অনেকাংশে সংঘর্ষ কমে আসত। আমরা এই রায় কার্যকর দেখতে চাই।
ঢামেক থেকে শুরু : ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিজেদের সংঘর্ষে প্রথম হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে ওই বছরের ৩০ মার্চ। নিহত হন ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের একাংশের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আসাদ ওরফে রাজীব। এ হত্যার মধ্য দিয়ে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্য রূপ লাভ করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলই এ হত্যাকান্ডের জন্য দায়ী। ২০১০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফ রহমান হলে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নির্মমভাবে খুন হন মেধাবী ছাত্র আবু বকর। এ হত্যা মামলায় সব আসামি ছিলেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: ২০১০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারির রাতে চট্টগ্রামের ষোল শহর রেলস্টেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র মহিউদ্দিন কায়সারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ হত্যার জন্য ছাত্রলীগ ও শিবির একে অপরকে দায়ী করে। পরে মহিউদ্দিনকে নিজেদের কর্মী দাবি করে চবি ছাত্রলীগ ও শিবির উভয় দলই। ২০১০ সালের ১২ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ-ছাত্রশিবিরের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে শাহ আমানত হল ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মামুন হোসেন নিহত হন। ২০১০ সালের ২৮ মার্চ রাতে শাটল ট্রেনে করে চট্টগ্রাম শহর হতে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে চবি মার্কেটিং বিভাগের ছাত্র হারুন অর রশীদকে গলাকেটে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ২০১০ সালের ১৫ এপ্রিল চবি ছাত্রলীগ ও বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন জোবরা গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে অ্যাকাউন্টিং দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ও ছাত্রলীগ কর্মী আসাদুজ্জামান নিহত হন। ২০১২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ ও শিবিরের মধ্যে দফায় দফায় গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনায় মুজাহিদ ও মাসুদ বিন হাবিব নামের দুই শিবির কর্মী নিহত হয়েছেন। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ২০১৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান ছাত্রলীগ কর্মী তাপস সরকার। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর রাতে চবির ২নং গেট সংলগ্ন নিজ বাসায় খুন হন ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ। এ হত্যাকান্ডে অভিযুক্ত আসামিরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মী।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়: ২০০৯ সালের ১৩ মার্চ ছাত্রলীগের হামলায় নিহত হন রাবির শিবিরের সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান নোমানী। পরের বছর ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল দখলকে কেন্দ্র করে শিবির-ছাত্রলীগের সংঘর্ষে নিহত হন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ কর্মী ও গণিত বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী ফারুক হোসেন। ২০১০ সালের ১৫ আগস্ট শোক দিবসে টোকেন ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে শাহ মখদুম হলের দোতলার ছাদ থেকে ছাত্রলীগ কর্মী নাসিরুল্লাহ নাসিমকে ফেলে হত্যা করে ছাত্রলীগ সভাপতি গ্রুপের কর্মীরা। ২০১২ সালের ১৫ জুলাই রাতে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের মাঝে গোলাগুলির ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ও ছাত্রলীগ কর্মী আবদুল্লাহ আল হাসান ওরফে সোহেল। পদ্মা সেতুর চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের এই আভ্যন্তরীণ কোন্দল লাগে বলে রিপোর্টে প্রকাশ। ছাত্রলীগের আভ্যন্তরীণ কোন্দলের বলি হন বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রস্তুম আলী আকন্দ। ২০১৪ সালের ৪ এপ্রিল নিজ কক্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তিনি।
ময়মনসিংহ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: কোনো শিক্ষার্থী নয় বাকৃবিতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের গোলাগুলীতে বলি হন ১০ বছরের শিশু রাব্বি। ২০১৩ সালের ১৯ জানুয়ারি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকান্ড ঘটে। ২০১৪ সালের ৩১ মার্চ নিজ দলের নেতাকর্মী হাতেই প্রাণ হারান আশরাফুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী সায়াদ ইবনে মমাজ। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ হত্যাকান্ড ঘটে বলে সে সময় জাতীয় সব গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়: এ হত্যাকান্ডের ছবি ও ভিডিও প্রকাশের পর সারা দেশ প্রকম্পিত হয়। শিবির সন্দেহে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কে দর্জি দোকানি বিশ্বজিৎ দাসকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর ১৮ দলের অবরোধ কর্মসূচির দিনে এ নির্মম হত্যাকান্ড ঘটে। এ ঘটনায় আটজনের মৃত্যুদন্ড ও ১৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ডের রায় হয়েছে। কিন্তু মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত দুজন ও যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত ১১ জনই ‘পলাতক’ রয়েছেন।
ছাত্রলীগের আভ্যন্তরীণ কোন্দলে ২০১২ সালের ৮ জানুয়ারি ছাত্রলীগের মধ্যে অন্তর্কলহের জেরে এক হামলায় গুরতর আহত হন জাবির ইংরেজি বিভাগের ছাত্র জুবায়ের আহমেদ। পরদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ হত্যাকান্ডের পর ক্যাম্পাসে তীব্র আন্দোলনের মুখে তৎকালীন জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরীফ এনামুল কবির পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: ২০১২ সালের ৯ জুন সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি ফাহিম মাহফুজ বিপুল। ২০১৫ সালের ১৬ এপ্রিলে বিশ্ববিদ্যালইয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একাংশের সঙ্গে সংঘর্ষে মারা পড়েন হাবিপ্রবির বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র জাকারিয়া ও কৃষি বিভাগের ছাত্র মাহমুদুল হাসান মিল্টন।
২০১২ সালের ১২ মার্চ অভ্যন্তরীণ কোন্দলে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবদুল আজিজ খান সজীব খুন হন।
২০১৪ সালের ১৪ জুলাই ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে প্রকাশ্যে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও বিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র নাইমুল ইসলাম রিয়াদ খুন হন।
২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর শাহজালাল বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের বন্দুকযুদ্ধে প্রাণ হারান ছাত্রলীগ কর্মী ও সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সুমন দাস।
বিভিন্ন কলেজে আরও ১১ খুন : ক্যাম্পাসে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ বছরের ৪ জুন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের আবু সিনা ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের হামলায় নিহত হন কলেজ ছাত্রদলের আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক ও কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী তাওহীদ ইসলাম। পরে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের ১০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়। চলতি বছর প্রতিপক্ষের হামলায় খুন হন সিলেটের মদনমোহন কলেজের ছাত্র সোহান। ২৭ জুলাই সিলেটের পাঠানটুলায় গোবিন্দগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও মহানগর ছাত্রদল নেতা জিল্লুল হক জিলু নিজ দলের কর্মীদের হামলায় নিহত হন। ২০১৩ সালের ২৯ নভেম্বর রাতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঢাকা কলেজে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে আসাদুজ্জামান ফারুক নামে কলেজের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের শেষ বর্ষের এক ছাত্র মারা যান। সিলেট এমসি কলেজে ২০১২ সালের ১৬ জুলাই ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান ছাত্রলীগ নেতা আবদুল্লাহ আল হাসান। ২০১১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর তেজগাঁও পলিটেকনিকে ফাও খাওয়া নিয়ে সংঘর্ষে রাইসুল ইসলাম রাসেল নামে এক শিক্ষার্থী মারা যান। ১৯ অক্টোবর ছাত্রদল কর্মীদের হাতে খুন হন মদনমোহন কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র ও ছাত্রলীগ কর্মী আল মামুন শিহাব। ২০ অক্টোবর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে আবিদুর রহমান নামের এক ছাত্রলীগ কর্মী হত্যার শিকার হন নিজ সংগঠনেরই কর্মীদের হাতে। ২০১০ সালের ৭ জানুয়ারি রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্রমৈত্রীর সহ-সভাপতি রেজানুল ইসলাম চৌধুরীকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ২১ জানুয়ারি পাবনা টেক্সটাইল কলেজের ছাত্র ও ছাত্রলীগ কর্মী মোস্তফা কামাল শান্তকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে যুবলীগ কর্মীরা। একই বছর ১২ জুলাই ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বলি হন সিলেট এমসি কলেজের গণিত বিভাগের ছাত্র ও ছাত্রলীগ কর্মী উদয়েন্দু সিংহ পলাশ।
সাধারণও বাদ পড়েনি: ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে মারা গেছেন নিরীহ মানুষ ও শিক্ষার্থী। বাদ পড়েনি শিশুও। ২০১৩ সালের ২৪ জুন চট্টগ্রামে রেলের দরপত্র জমা দেওয়া নিয়ে যুবলীগ-ছাত্রলীগের মধ্যে গোলাগুলিতে আট বছরের শিশু আরমান হোসেন ও ২৫ বছরের যুবক সাজু পালিত মারা যান। একই বছরের ১৯ জানুয়ারি আধিপত্য বিস্তার, টেন্ডারবাজি, পূর্বশত্রুতার জের ধরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মারামারিতে নিহত হয় শিশু রাব্বী। গত ১৪ ই জুন ২০২০ রবিবার 
পাবনার চাটমোহরে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে প্রতিপক্ষের অস্ত্রাঘাতে হাবিবুর রহমান হাবিব (২২) নামের এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা খুন হয়েছেন

বিশিষ্টজনরা বলেছেন, দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আজ ধ্বংসের ধারপ্রান্তে। নেই সুষ্ঠুধারার ছাত্র রাজনীতি, আছে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের একক আধিপত্য। যার ফলে এ সব ঘটনা ঘটছে। এটা দেশের জন্য অশনি সঙ্কেত বয়ে আনবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সুকমল বড়–য়া গণমাধ্যমকে বলেন, ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের কোন্দল, হল দখলের রাজনীতি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির কারণে এসব ঘটনা ঘটছে। এর পরিবর্তন আবশ্যক। নইলে দেশের জন্য অশনি সঙ্কেত বয়ে আনবে। সব ছাত্র সংগঠনের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠুধারার রাজনীতি চালু করলে এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, আমি আমার এই বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে দেখিনি, একটি হত্যাকান্ডের ঘটনার বিচার হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক নাট্যকার মলয় ভৌমিক বলেন, আমি আমার ৩৫-৩৬ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, একটি হত্যাকান্ডেরও বিচার হয়নি। ঠিকমতো বিচার চাওয়াও হয়নি, বরং লাশের রাজনীতি হয়েছে। সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একই ঘটনা ঘটেছে।

Wednesday, 23 September 2020

উজানের নৌকা ভাটিতে : আরিফ মাহফুজ |Sunamganj Live|সুনামগঞ্জ লাইভ

উজানের নৌকা ভাটিতে : আরিফ মাহফুজ |Sunamganj Live|সুনামগঞ্জ লাইভ


নিরপেক্ষ দৃষ্টি ভঙ্গিতে রাজনৈতিক সমীকরণ বিশ্ল্লেষণের অধিকার সবারই আছে। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক চর্চাকে পাশ্চাত্যের রাজনৈতিক গবেষকরা অত্যন্ত ভয়ঙ্কর পটভূমি হিসাবে উল্লেখ করেন স্থানীয় রাজনীতিকে।  যার সমীকরণ মিনিটে মিনিটে পরিবর্তন হয়। তবে জাতীয় রাজনীতির ভিত কিন্তু প্রকট ভাবে নির্ভর করে স্থানীয় বা তৃণমূল রাজনীতির উপর। স্থানীয়  বা   তৃণমূল রাজনীতি হলো  জাতীয় রাজনীতির মেরুদন্ড।প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল তৃণমূলের উপর নির্ভরশীল বলেই সব সময় তৃণমূলকে সংগঠিত করার জন্য সবচেয়ে বেশি গুরত্ব প্রদানের মাধ্যমে সময় ব্যয়  করা হয় ।
আবার দলীয় কট্টর নেতাদেরও খুব গুরুত্ব দেয়া হয় এবং এটাই উচিত। কর্মী থেকে  তিলে  তিলে নেতা হওয়া নেতাদের সঠিক মূল্যায়ন করা  প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের নীতি গত বৈশিষ্ট।  কিন্তু হঠাৎ  কিছু ব্যাতিক্রম ঘটনা লক্ষ্য করা যায় যা থেকে রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে মহা সংকটে কিংবা চিন্তায় পরে যান রাজনৈতিক বিশ্ল্লেষকরা বা সুশীল সমাজের চিন্তাবিদরা। এরকম বিষয় যে কোন রাজনৈতিক দলেই ঘটুকনা কেন। সম্প্র্রতি জামালগঞ্জ উপজেলার উপনর্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রাথী নির্বাচনে অত্যন্ত নাটকীয় পটভুমির জন্ম হয়ে গেলো। দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নিয়ে গত ১৮ই সেপ্টেম্বর জামালগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ এর তৃণমূল পর্যায়ে একটি ভোটাভোটি হয়ে গেলো -যেখানে ৬১টি ভোট আর মধ্যে ৫৭টি ভোট পেয়েছেন মনোনয়ন প্রত্যাশী রেজাউল  করিম শামীম। রেজাউল করিম শামীমের তৃণমূল নির্বাচনের রায় পরিষ্কার করে দিয়েছিলো যে তিনিই দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছেন বা তিনিই যোগ্য প্রার্থী। কিন্তু বেলা শেষে বদলে গেলো দৃশ্যপট -ট্রেলার যেরকম ছিল ফুল মুভি উল্টো। দল থেকে মনোনয়ন পেলেন তৃণমূল নির্বাচনে ৪ ভোট পাওয়া ইকবাল আল আজাদ। তার মানে রাজনীতির বা রাজনৈতিক দলের  ট্রেলার আর ফুল মুভি এক হয় না। এবার আসা যাক মূল বিশ্ল্লেষণে -ইকবাল আল আজাদের মনোনয়ন পাওয়াকে সবারই স্বাগতম ও অভিনন্দন জানানো উচিত -দলের সবাই ও উপজেলাবাসী সবাই তাঁর জন্য শুভ  কামনা করছে -এটাই স্বাভাবিক। সে তাঁর চেষ্টার মাধ্যমে অর্জন করেছে। এখন কথা হলো মনোনয়ন প্রদান কারীরা প্রাথী নির্বাচনে কি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ? নাকি স্বজন প্রিয়তায় গা ভাসিয়ে প্রাথী দিয়েছেন। নিরপেক্ষতায় থাকলে দৃষ্টি প্রক্ষেপন কি বলে ? মনোনয়ন পাওয়ার কথা ছিলো রেজাউল করিম শামীম -কিন্তু কেন তিনি পাননি ? তাহলে কি পূর্বের বিরাগভাজন কারীরাই  কল কাঠি নেড়েছেন ? যদি তাই হয় তাহলে সারাজীবন একই দলে রাজনীতি করে জীবন পার করে লাভ কি ? বর্ষীয়ান খেতাব লাগানোর দরকার কি ? রেজাউল করিম শামীম একজন কট্টর পন্থী আওয়ামীলীগার।   দল  ত্যাগ দল পরিবর্তন  করতে তাঁকে দেখা যায়নি কখনো। তিনি একনিষ্ঠ একজন আওয়ামীলীগার।গত উপজেলা নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়েও তিনি মনোনয়ন পাননি , পরে স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করেন।  যদিও গবেষকদের মতে  গত উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে তাঁর নির্বাচন করা সঠিক সিদ্ধান্ত ছিলোনা। গত নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়াটাই আজকের প্রেক্ষাপটের জন্য দায়ী। 
তাছাড়াও স্থানীয় অনেক বিষয়ে জড়িত হওয়া নিয়ে রেজাউল করিম শামীমকে নিয়ে নেগেটিভ গুঞ্জন রয়েছে  যা বর্তমান প্রেক্ষাপট সৃষ্টির পিছনে কাজ করেছে। তবে ছোট থেকে বড়  বেশিরভাগ রাজনৈতিক নেতাদেরই নেগেটিভ গুঞ্জন থাকে।  তাই বলে একজন বর্ষীয়ান নেতাকে মূল্যায়নের বাহিরে ফেলে দেয়া কোনো রাজনৈতিক দলেরই উচিত না বা কাম্য নয় ।  এরকমই যদি হয় তাহলে মানুষ প্রকৃত রাজ নীতি থেকে সরে যাবে।  নতুন প্রজন্ম ধরে নিবে নেতৃত্বে আসার জন্য রাজনীতির দরকার নেই -টাকা আর লবিং থাকলেই জনপ্রতিনিধি হওয়া যায়  -যে দুটি জিনিস থাকলে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সময়সীমার কোনোটারই  দরকার নেই সে দুটি জিনিসই দরকার। নতুন
প্রজন্ম যাতে রাজনীতি বিমুখ না হয়ে যায় সেদিকে খেয়াল রেখে প্রত্যেক দল কে তৃণমূলকে মূল্যায়ন করে -তৃণমূলের মতামতকে প্রাধান্য দিতে হবে।  তৃণমূলের মূল্যায়নকে অবজ্ঞা করে উজানের নৌকা ভাটিতে দিলে  রাজনীতির উপর মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলবে।সেটা  যে কোনো দলই হউক না কেন। সবশেষে , সব প্রার্থীর জন্য শুভ কামনা করছি , যেন সরকারী প্রভাব মুক্ত একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন হয় সেই প্রত্যাশায় ।

লেখক : আরিফ মাহফুজ , সাংবাদিক-কলামিস্ট।

Monday, 21 September 2020

প্রার্থী বনাম প্রতীক : আরিফ মাহফুজ | Sunamganj Live| সুনামগঞ্জ লাইভ

প্রার্থী বনাম প্রতীক : আরিফ মাহফুজ | Sunamganj Live| সুনামগঞ্জ লাইভ


রাজনীতির শেষ বলতে কোন কথা নেই ।  রাজনীতির মেরুকরণ কখন ঘুরে কোথায়  যায় বুঝা যায় না।এ বছর বৈরি আবহাওয়া ও কোভিড-১৯ করোনা মহামারী সংক্রমণ পরিস্থিতিতেও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিভিন্ন সংসদীয় ও উপজেলা পরিষদের শুন্য আসনে উপ নির্বাচন। দেশে রাজনৈতিক পরিবেশও রয়েছে মারাত্মক বৈরী পরিবেশের মধ্যে। সরকারের দমনপীড়ন এর মধ্যে চলছে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকান্ড। অবরুদ্ধ দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি র রাজনৈতিক কর্মকান্ড। সর্বশেষ অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচন নিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতা সঙ্গে নিয়েই উপনির্বাচন এর শুন্য পদ গুলোতে প্রার্থী দিচ্ছে বিএনপি।  লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করা। রাজনৈতিক হিসাব নিকাশের বাহিরেও দলীয় নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত রাখতে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করারও মূল উদ্দেশ্য  ।   অত্যন্ত সুচারু ভাবে পর্যবেক্ষণ করে দলীয় মনোনয়ন দিচ্ছে বিএনপি। যোগ্যতার ম্যাপ এবং মাপকাঠিতে মানদন্ড যাচাই করেই প্রতিটি প্রার্থীকে সিলেকশন করেছে দলের হাই কমান্ড। ঘাড়ে চাপিয়ে বা লবিংয়ের মাধ্যমে কোনো আসনের পার্থীকে প্রতীক দেয়া হয়নি। জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদের শুন্য আসনে উপনির্বাচনে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে বিএনপির মনোনীত প্রাথী হিসেবে জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাচনা বাজার ইউনিয়ন পরিষদের  বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুলহক আফিন্দীকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। দলীয়ভাবে ধানের শীষ প্রতীক এর প্রার্থীকে  জানাই অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। উপজেলার সাধারন নাগরিক হিসেবে এবং ব্যাক্তিগত পছন্দ থেকে জানাই লাল গোলাপ শুভেচ্ছা। ব্যাক্তি পছন্দ ও দলীয় পছন্দ দুটি আলাদা বিষয়। রাজনীতির মারপ্যাঁচে দলীয় পছন্দের মধ্যে ব্যাক্তিগত পছন্দ -অপছন্দ বিষয়টি নিয়ে একটি ঘোলাটে পরিস্থিতি কাজ করে সবখানে সব দলেই।  যার জন্য দলীয় নির্বাচনে এর প্রভাব বিস্তার হয়ে দলের ক্ষতি হয়। কোনো ব্যাক্তির সাথে কোনো  ব্যাক্তির আন্তরিকতার অভাব থাকতেই পারে -আবার আন্তরিকতায় ভরপুর থাকতে পারে কিন্তু নির্বাচন প্রাক্কালে এই দুইটি বিষয়কে দূরে রেখে দলীয় প্রেমটাকে প্রকটভাবে জাগিয়ে তোলা প্রয়োজন।  ভুলে যেতে হবে সব পছন্দ-অপছন্দ , মনোমালিণ্য।
সরেজমিনে এবং উপজেলার তৃণমূল বিভিন্ন গ্রামীণ জনপদে  দেখা গেছে নুরল হক আফিন্দীর জনপ্রিয়তা। তিনবারের  ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি তাঁর দক্ষতা প্রমান করতে সক্ষম হয়েছেন।প্রার্থী আপনার এবং প্রতীকও আপনার। দলীয় প্রেমে জাগ্রত হয়ে আগামী ২০শে অক্টোবর  আসন্ন জামালগনগঞ্জ উপজেলা উপনির্বাচনে নরুল হক আফিন্দী-কে ধানের  শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে জাতীয়তাবাদী ঝান্ডা হাতে  -শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সেই ওমর বাণীর প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সমস্বরে বজ্রকণ্ঠে আওয়াজ তুলুন -ব্যাক্তির চেয়ে দল বড় , দলের চেয়ে দেশ বড়। প্রার্থী থেকে প্রতীক ,দুটোই আমার দুটোই আমার অহংকার -কারন আমি জিয়ার সৈনিক।
লেখক : আরিফ মাহফুজ ,সাংবাদিক-কলামিস্ট।
            সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য যুক্তরাজ্য বিএনপি।
           সাবেক যুগ্ন-সম্পাদক,যুক্তরাজ্য জাসাস।
জামালগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

জামালগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান


সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের উপর হামলার প্রতিবাদে স্মারকলিপি প্রদান ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার সকালে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আয়োজনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন পরবর্তী সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমা-ের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম কলমদরের সভাপতিত্বে ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমা-ের সাবেক ডেপুটি কমা-ার শ্রীকান্ত তালুকদার, সাবেক দপ্তর সম্পাদক মো. রইছ উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা নিতাই বনিক, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান মারজানা ইসলাম শিবনা প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ‘বিগত ১২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের কালীপুর গ্রামের প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা সোনাফর আলীর স্ত্রী ও তার ছেলের স্ত্রীর উপর একই ইউনিয়নের লম্বাবাঁক গ্রামের দিলোয়ার হোসেন গংদের চালানো সন্ত্রাসী ও নির্যাতনমূলক কর্মকা-ে আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি প্রার্থনা করছি। দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলে আর কোন অপরাধী এমন অপরাধ কর্ম করতে সাহস পাবে না।’
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব বলেন, ‘আমি এখন সুনামগঞ্জ মিটিংয়ে আছি। অফিসে এসে স্মারকলিপি দেখে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

Monday, 31 August 2020

বণিক সমিতির নির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে উপজেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে অভিনন্দন

বণিক সমিতির নির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে উপজেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে অভিনন্দন


জাতির শ্রেষ্ট সন্তান, জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদের বারবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান, সাচনা বাজার বণিক সমিতির আমৃত্যু সভাপতি সদ্য প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আল আজাদ’র প্রয়াণে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে গতকাল সাচনা বাজার দলীয় কার্যালয়ে বণিক সমিতির স্টেয়ারিং কমিটির এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত আলোচনা সভায় সমিতির সর্ব সম্মতিক্রমে বাবু চিত্ত রঞ্জন পাল কে সভাপতি ও বণিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক,উপজেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম নেতা,সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন রতন’র আস্থাভাজন আসাদ আল আজাদ কে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।
নব নির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জামালগঞ্জ উপজেলা শাখা।
এছাড়াও সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন কাজ সম্পন্ন করায় সমিতির সকল সদস্যের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানায় উপজেলা ছাত্রলীগ।

Thursday, 27 August 2020

সুনামগঞ্জ সহ দেশের ২৩৪ পৌরসভায় ভোট ডিসেম্বরে (তালিকাসহ)

সুনামগঞ্জ সহ দেশের ২৩৪ পৌরসভায় ভোট ডিসেম্বরে (তালিকাসহ)


সুনামগঞ্জ লাইভ ডেস্ক : আগামী ডিসেম্বরে পৌরসভার ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ওই সময়ে ভোট করার প্রস্তুতি নিয়ে এগুচ্ছে। প্রায় আড়াইশ’র মতো পৌরসভায় ভোট হতে পারে। এই লক্ষ্যে ইসি সচিবালয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন। রোববার (২৩ আগস্ট) অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, ওই সভায় পৌরসভা নির্বাচনের বিষয়টি এজেন্ডাভুক্ত না হলেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয় এবং পৌরসভাগুলোর নির্বাচনের সময় হওয়ায় নভেম্বর-ডিসেম্বরে সাধারণ নির্বাচন আয়োজনে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে গত ১০ আগস্টের কমিশন সভায়ও একই ধরনের সিদ্ধান্ত হয়।
এদিকে ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে পৌরসভাগুলোর বর্তমান পরিষদের মেয়াদ, নির্বাচন আয়োজনে কোনও জটিলতা আছে কিনা এসব সার্বিক তথ্য চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি সচিবালয়। দুয়েকদিনের মধ্যে মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হবে। পাশাপাশি নির্বাচনের আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কমিশন মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমে পৌরসভাগুলোর মেয়াদসহ অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে তিনশ’ পৌরসভা রয়েছে। এদের মধ্যে ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর একযোগে ২৩৪টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া অন্যান্য পৌরসভাগুলোর ভোট মেয়াদ অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর যে পৌরসভাগুলোর ভোট হয়েছিল, তার বেশিরভাগের মেয়র ও কাউন্সিলররা পরের বছর (২০১৬ সাল) জানুয়ারি/ফেব্রুয়ারি মাসে শপথ নেন। আর ফেব্রুয়ারির মধ্যে তাদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই হিসেবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে এসব পৌরসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে।
ইসি সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ ২০১৫ সালের ২৪ নভেম্বর ২৩৪টি পৌরসভার তফসিল ঘোষণা করে ৩০ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ করা হয়। এবারও ওই তালিকা ধরে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে ইসি সচিবালয়। ইতোমধ্যে পৌরসভার বর্তমান পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ, প্রথম সভার তারিখ ও জনপ্রতিনিধিদের শপথগ্রহণের তারিখ সংগ্রহ করে কমিশনে পাঠাচ্ছেন বিভিন্ন জেলার নির্বাচন কর্মকর্তারা। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি জেলা থেকে ইসি সচিবালয় এই তথ্য সংগ্রহ করেছে।
ডিসেম্বরে যে ২৩৪ পৌরসভায় ভোট
আগামী ডিসেম্বরে যেসব পৌরসভায় ভোট অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা রয়েছে সেগুলো হলো, রাজশাহী জেলার কাঁকনহাট, আড়ানী, মুন্ডুমালা, কেশরহাট, গোদাগাড়ী, তাহেরপুর, ভবানীগঞ্জ, তানোর, কাটাখালী, চারঘাট, দুর্গাপুর, পুঠিয়া, নওহাটা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, রহনপুর, শিবগঞ্জ, নাচোল, জয়পুরহাট সদর, আক্কেলপুর, কালাই, নওগাঁ সদর, নজিপুর, নাটোর সদর, সিংড়া, বড়াইগ্রাম, নলডাঙ্গা, গোপালপুর, গুরুদাসপুর, পাবনা সদর, ভাঙ্গুড়া, ঈশ্বরদী, চাটমোহর, সাঁথিয়া, সুজানগর, ফরিদপুর, বগুড়া সদর, শেরপুর, সারিয়াকন্দি, গাবতলী, সান্তাহার, কাহালু, ধুনট, নন্দীগ্রাম, শিবগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ সদর, শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ, বেলকুচি ও কাজিপুর পৌরসভা।
টাঙ্গাইল সদর, ধনবাড়ী, মধুপুর, মির্জাপুর, ভুঞাপুর, সখিপুর, গোপালপুর, কালীহাতি, জামালপুর সদর, সরিষাবাড়ী, মেলান্দহ, ইসলামপুর, মাদারগঞ্জ, দেওয়ানগঞ্জ, শেরপুর সদর, নকলা, নালিতাবাড়ী, শ্রীবরদী, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা, গৌরীপুর, ঈশ্বরগঞ্জ, ত্রিশাল, ভালুকা, গফরগাঁও, নান্দাইল, ফুলপুর, ফুলবাড়িয়া, নেত্রকোনা সদর, মদন, মোহনগঞ্জ, দুর্গাপুর, কেন্দুয়া, কিশোরগঞ্জ সদর, কুলিয়ারচর, হোসেনপুর, কটিয়াদী, বাজিতপুর, ভৈরব, করিমগঞ্জ, মানিকগঞ্জ সদর, সিংগাইর, মুন্সীগঞ্জ সদর, মিরকাদিম, ঢাকার ধামরাই, সাভার, নরসিংদী সদর, মাধবদী, মনোহরদী, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ, তারাবো, রাজবাড়ী সদর, পাংশা, গোয়ালন্দ, ফরিদপুরের বোয়ালমারী, নগরকান্দা, গোপালগঞ্জ সদর, টুঙ্গীপাড়া, মাদারীপুর সদর, কালকিনি, শিবচর, শরীয়তপুর সদর, নড়িয়া, ডামুড্যা, জাজিরা, ভেদরগঞ্জ পৌরসভা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া, কুমিল্লার চান্দিনা, লাকসাম, দাউদকান্দি, বরুড়া, চৌদ্দগ্রাম, হোমনা, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ, ছেংগারচর, ফরিদগঞ্জ, কচুয়া, মতলব, ফেনী সদর, দাগনভুইঞা, পরশুরাম, নোয়াখালীর বসুরহাট, চৌমুহনী, হাতিয়া, চাটখিল, লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ, রামগতি, রায়পুর, চট্টগ্রামের সন্দীপ, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, মীরসরাই, বারাইয়ারহাট, পটিয়া, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, সীতাকুণ্ডু, খাগড়াছড়ি সদর, মাটিরাঙা, রাঙামাটি সদর, বান্দরবান সদর ও লামা পৌরসভা।
মেহেরপুরের গাংনী, কুষ্টিয়া সদর, মিরপুর, ভেড়ামারা, কুমারখালী, খোকসা, খুলনার পাইকগাছা, দাকোপের চালনা, চুয়াডাংগা সদর, দর্শনা, জীবননগর, আলমডাঙ্গা, ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর, মহেশপুর, হরিণাকুণ্ডু, শৈলকূপা, যশোর সদর, নওয়াপাড়া, মনিরামপুর, বাঘারপাড়া, চৌগাছা, কেশবপুর, নড়াইল সদর, কালিয়া, বাগেরহাট সদর, মোড়েলগঞ্জ, মাগুরা সদর, সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়া পৌরসভা।
ঝালকাঠির নলছিটি, পিরোজপুর সদর, স্বরূপকাঠি, পটুয়াখালীর কলাপাড়া, কুয়াকাটা, বরগুনা সদর, বেতাগী, পাথরঘাটা, বরিশালের মুলাদী, গৌরনদী, মেহেন্দীগঞ্জ, বানারীপাড়া, বাকেরগঞ্জ, উজিরপুর, ভোলা সদর, বোরহানউদ্দিন, দৌলতখান।
সুনামগঞ্জ সদর, ছাতক, জগন্নাথপুর, দিরাই, সিলেটের জকিগঞ্জ, কানাইঘাট, গোলাপগঞ্জ, মৌলভীবাজার সদর, কমলগঞ্জ, কুলাউড়া, বড়লেখা, হবিগঞ্জ সদর, নবীগঞ্জ, চুনারুঘাট, মাধবপুর ও শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভা।
কুড়িগ্রাম সদর, নাগেশ্বরী, উলিপুর, গাইবান্ধা সদর, গোবিন্দগঞ্জ, সুন্দরগঞ্জ, পঞ্চগড় সদর, ঠাকুরগাঁও সদর, পীরগঞ্জ, রানীশংকৈল, দিনাজপুর সদর, ফুলবাড়ী, বীরগঞ্জ, বিরামপুর, হাকিমপুর, নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর, জলঢাকা, পঞ্চগড় সদর, রংপুরের বদরগঞ্জ, লালমনিরহাট সদর ও পাটগ্রাম পৌরসভা।

Wednesday, 26 August 2020

জামালগঞ্জের পল্লীতে শ্মশানঘাটের বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগ

জামালগঞ্জের পল্লীতে শ্মশানঘাটের বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগ


সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলায় মাতারগাঁও গ্রামের শ্মশানঘাট উন্নয়নের নামে সরকারি বরাদ্দ উত্তোলন করে আত্মসাতের পাঁয়তারা করছে বলে ওই গ্রামের লোকজন গত ২৫ আগস্ট ইউএনও বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের বিবরণে জানা যায়, সরকারেরর গ্রাম উন্নয়ন অবকাঠামো (কাবিখা-খাদ্য শস্য) উন্নয়ন খাতে ২০১৯-২০ অর্থবছরে উল্লেখিত গ্রামের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ব্যবহার্য একমাত্র শ্মশানঘাট উন্নয়নের জন্য একটি পিআইসির অনুকূলে ৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে কাজ সম্পন্ন করার নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও কথিত গোপন পিআইসি কমিটি কোন কাজ করেনি।
বিষয়টি গ্রামবাসীর মধ্যে জানাজানি হলে তারা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন গ্রামের কবিন্দ্র তালুকদার সভাপতি ও প্রসিত তালুকদারকে সদস্য সচিব করে ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি পিআইসি কমিটি দেখানো হয়েছে। পিআইসির ওপর ৩ সদস্য হলেন পিযুষ তালুকদার, কিরন তালুকদার ও বিজিত তালুকদার। যা গ্রামের কেউ অবগত নয়। গ্রামের কাউকে না জানিয়ে গোপনে প্রকল্প কমিটি করে বরাদ্দ উত্তোলন ও মেয়াদান্তে কোন কাজ না করেই উত্তোলনকৃত বরাদ্দের সমুদয় টাকা আত্মসাতের পাঁয়তারা করায় এতে গ্রামবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গ্রামবাসী সরকারের বরাদ্দের ব্যাপারে কথিত সভাপতি ও সদস্য সচিবের কাছে জানতে চাইলে তাতে তারা কোন তথ্য না দিয়ে বলেন, আমাদের চাল আমরা উত্তোলন করেছি, তোমাদের জানাতে হবে কেন? সরকার থেকে মাল এনেছি সরকারকে জানাব। এতে করে সরকারি বরাদ্দের লুকোচুরি গ্রামের উত্তেজনা বিরাজ করছে। শ্মশানঘাট বরাদ্দের লুকোচুরি নিয়ে বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অভিযোগ দায়ের করেছেন গ্রামবাসীর পক্ষে বিপুল তালুকদার, পিন্টু তালুকদার, দেবন তালুকদার।
কথিত কমিটির সদস্য পিযুষ তালুকদার বলেন, কমিটি করার সময় একটা দস্তখত নিছিলো। এরপর আর আমি কোন দস্তখত দেই নাই। কিভাবে মাল তুলছে, কোথায় বিক্রি করছে, আমি কিছুই জানি না। কাজ হয়েছি কি না তাও জানি না। কবিন্দ্র কি করছে সেই জানে।
সভাপতি কবিন্দ্র তালুকদার বলেন, বন্যার কারণে মাল নেই নাই। এখন মিস্ত্রি বাও করছি। মিস্ত্রি বলছে দিন ধরলে কাজ করব। মালামাল পুথার মধ্যে রেডি আছে। প্রতিহিংসার আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। কাজ শেষ করে অফিসে মাস্টার রুল দিব।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব বলেন, অভিযোগটি এখনও আমার হাতে এসে পৌঁছেনি। অভিযোগের বিষয়ে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।