Showing posts with label অর্থনীতি. Show all posts
Showing posts with label অর্থনীতি. Show all posts

Monday, 9 November 2020

জামালগঞ্জের নোয়াগাঁও এ সড়ক দূর্ঘটনা নিহত ১ জন |Sunamganj Live|সুনামগঞ্জ লাইভ

জামালগঞ্জের নোয়াগাঁও এ সড়ক দূর্ঘটনা নিহত ১ জন |Sunamganj Live|সুনামগঞ্জ লাইভ


 জামালগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে নোওয়াগাঁও ব্রীজের উপর অটোরিকশার সাথে মটরসাইকেলের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে নিহত ১ আহত ১ জন।জানা যায়, আজ দুপুরে ভীমখালী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার বড় ঘাগটিয়া গ্রামের ছুরত আলি মেহমান বাড়ি থেকে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে অটোরিকশায় বাড়িতে আসার সময় নোওয়াগাঁও ব্রীজের উপর মোটর সাইকেলের সাথে সংঘর্ষ হয়।

এতে ঘটনাস্থলে ছুরত আলী (৬৫) মারা যান। মটর সাইকেলের চালক রুপাবালী গ্রামের বোরহান উদ্দিন (৪৫) গুরত্বর আহত হয়ে সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

এব্যাপারে ওসি (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা খবর পেয়েছি, এখন পর্যন্ত নিহতের কেউ যোগাযোগ করেনি। যোগাযোগ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Friday, 23 October 2020

হুমকির মুখে পর্যটন স্পট তাহিরপুরের লাল শাপলার বিকি বিল| Sunamganj Liveসুনামগঞ্জ লাইভ

হুমকির মুখে পর্যটন স্পট তাহিরপুরের লাল শাপলার বিকি বিল| Sunamganj Liveসুনামগঞ্জ লাইভ


কামাল হোসেন, সুনামগঞ্জ : হুমকির মুখে তাহিরপুরের লাল শাপলার বিকি বিল: গরু মহিষের খাদ্য হিসেবে স্থানীয় কৃষকরা এখন ব্যবহার করছে বিকি বিলের শাপলার ডাটা।

গত কয়েক মাস যাবৎ স্থানীয় কৃষকরা অবাধে গোখাদয়ার যোগান হিসেবে বিকি বিলের লাল শাপলা ডাটা কেটে ব্যবহার করার কারণে এখন বিনষ্টের মুখে অপরূ সৌন্দর্যের গালিচার খ্যাত তাহিরপুরের নতুন পর্যটন স্পষ্ট লাল শাপলার বিকি বিল।

গতকাল শনিবার দুপুর সরেজমিনে সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের খাসতাল গ্রামের উত্তর পশ্চিমে অবস্থিত বিকির বিলে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে বিলের সৌন্দর্য বিনষ্টের কথা জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, বিলে গত বছর যে পরিমাণ শাপলা ফুটতো, এ বছর তার আর দেখা মিলছে না। গরু আর মহিষের খাবারের জন্য অবাধে শাপলার ডাটা তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। দ্রুত এই সম্ভাবনাময় লাল শাপলার এ বিলটিকে রক্ষায় প্রশাসনকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণেরও জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ।

জানাযায়, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ গত বছরের ১২ অক্টোবর সকালে পরিদর্শনে এসে পযর্টন স্পষ্ট হিসাবে তাহিরপুর উপজেলাধীন বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ টাঙ্গুয়ার হাওর, নয়নাভীরাম নিলাদ্রী ডিসি পার্ক, শহীদ সিরাজ লেক, বারেকের টিলা, যাদুকাটা নদী, শিমুল বাগান, প্রত্নতাত্তিক নিদর্শন হলহলিয়া জমিদার বাড়ির পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিকভাবে একটি সাইনবোর্ড টানিয়ে লাল শাপলার বিকি বিলটি উদ্বোধন পর্যটন হিসাবে নতুন মাত্রাযোগ করেন।

এরপর বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিকস মিডিয়ার সাংবাদিকগন বিভিন্ন পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলে লাল শাপলার বিকি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেন। সাংবাদিকদের সংবাদ প্রকাশ পর থেকেই দেশ বিদেশের পর্যটকদের নজরে আসে লাল শাপলার বিকি বিল।

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার কাশতাল এলাকায় অবস্থিত লাল শাপলার বিকিবিলটি হলহলিয়ার চক ও দিঘলবাঁক মৌজার প্রায় ১৪.৯৫ একর জায়গা নিয়ে গঠিত। এর উত্তরে নয়নাভিরাম ভারতের মেঘালয় পাহাড়।

জানাযায়,গত এক যুগ ধরে এ বিকি বিলে সামান্য ফুল ফুটতো, কিন্তু ৪/৫ বছর ধরে পুরো হাওরে লাল শাপলা ফুটে প্রকৃতির এক অপরুপ সৌন্দর্য ধারণ করে। দেখলে মনে হয় কে যেন আপনাকে স্বাগত জানানোর জন্য লাল গালিচায় মোড়ায়ে রেখেছে। যতদুর চোখ যায় শুধু লাল আর লাল।

কিন্তু এ বছর বিকি বিলের এমন সৌন্দর্য নেই বললেই চলে। সাম্প্রতিক গত কয়েক দফা বন্যায় একদিকে বিলের সৌন্দযের্র উপড় প্রভাব পড়ে। অন্যদিকে ভয়ে যাওয়া কয়েক দফা বন্যায় এ অঞ্চলের কৃষকদের গোখাদ্য সংকটের কারণে বর্তমনে পার্শ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামের লোকজন অবাধে শাপলার ডাটা উপড়ে গরু মহিষের খাদ্যের জন্য বাড়ি নিয়ে গোখাদ্য হিসাবে ব্যবহার করছে। বর্তমানে যা কিছ সৌন্দর্য অবশিষ্ট রয়েছে তাও এখন বিনষ্টের পথে ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিকি বিল থেকে স্থানীয়রা লাল শাপলার ডাটা কেটে নৌকা বোঝাই করে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছে , জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক এ প্রতিবেদককে জানান, এ অঞ্চলের কৃষকেরা তাদের গরু, মহিষকে খড়ের পরিবর্তে বিলের এ শাপলার ডাটা কেটে নিয়ে খাওয়াচ্ছেন।

আমবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা বাংলাদেশ কৃষকলীগ বড়দল উত্তর ইউনিয়ন শাখার আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন দুলাল বলেন, গত বছর যেখানে প্রতিদিন ওই শতশত পর্যটক লাল শাপলার বিকি বিল দেখতে আসতো কিন্তু এবছর এই বিল কেউ আর দেখতে আসবেনা। এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন,
অবাধে লোকজন শাপলার ডাটা কেটে নৌকা ভরে নিয়ে যাচ্ছে । বাধা দিলেও কেউ শুনছে না। বিলের যে সৌন্দর্য ছিল সে পরিবেশটা এখন আর নেই বললেই চলে।

এ বিষয়ে বড়দল উত্তর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো. মাসুক মিয়া একই অভিযোগ , তিনিও জানান স্থানীয় এলাকাবাসী এই নয়নাভিরাম আপরূ সৌন্দর্যের লীলাভূমি দৃষ্টিনন্দন লাল শাপলার বিকি বিল থেকে শাপলার ডাটা উপড়ে যে যার মতো করে নিয়ে গরু মহিষকে খাওয়ানো ফেলে এর সৌন্দর্য প্রায় ধ্বংসের পথে। থানীয় লোকজনের সাথে লাল শাপলার বিকি বিলের সৌন্দর্য উদ্ধারে তিনিও দ্রুত প্রশাসনের সুদৃষ্টি কাম করছেন।

এ নিয়ে বড়দল উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আবুল কাশেম জানান, কয়েক দফা বন্যায় বিলের সৌন্দর্য বিনষ্ট হয়েছে আর যা কিছু অবশিষ্ট রয়েছে তা বর্তমানে কৌশল করেই বিলের অাশপাশের গ্রামের মানুষ বিলের এ শাপলার ডাটা কেটে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যে যার মতো বাড়ি নিয়ে গিয়ে গরু মহিষের খাওয়াচ্ছে ।

এর সৌন্দর্য রক্ষা করে দেশ বিদেশে এ বিলকে দৃষ্টিনন্দন পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তোলার জন্য জেলা প্রশাসক মহোদয় যেন কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

এ প্রসঙ্গে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ দৈনিক জবাবদিহিকে জানান, গরু মহিষের খাবারের যোগান হিসেবে বিকি বিলের লাল শাপলার ডাটা উপড়ে গোখাদ্য হিসাবে ব্যবহার করে এর সৌন্দর্য বিনষ্ট করা হচ্ছে তা আমি জানতে পেরেছি। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এই পর্যটন স্পষ্ট লাল শাপলার বিকি বিলের সৌন্দর্য রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Wednesday, 16 September 2020

এক লাফে পেঁয়াজের সেঞ্চুরি: আলী রেজা |Sunamganj Live| সুনামগঞ্জ লাইভ

এক লাফে পেঁয়াজের সেঞ্চুরি: আলী রেজা |Sunamganj Live| সুনামগঞ্জ লাইভ


আলী রেজা: গত বছর এই সময় কৃতিম সংকট তৈরি করে ২৫০-৩০০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হলেও, আমরা দেখেছি শেষের দিকে ব্যবসায়ীদের পেঁয়াজ গুদামে পঁচেছে। তাই আমাদের এখনি ক্রয় অভ্যাস পরিবর্তন করা উচিৎ। অযথা আতংকগ্রস্থ হয়ে একসাথে বেশি পেঁয়াজ কিনে মধ্যবিত্ত ও নিন্মবিত্ত মানুষকে বিপদে ফেলা কোন ভাবেই উচিৎ নহে। আমরা অল্প অল্প করে কিনি এবং পেঁয়াজের ব্যবহার কমাবার চেষ্টা করি। মানুষকে আতংকগ্রস্থ করে ব্যবসায়ীরা হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। এটাই ব্যবসায়ীদের কৌশল। ব্যবসায়ীদের এই  চালাকি ঠেকাতে আমরা ক্রেতারা প্রতিজ্ঞা করি, পেঁয়াজ গুদামেই পঁচানোর ব্যবস্থা করব। 
বাজারে বর্তমান বাজার দর ৯০-১০০ টাকা।
যে বা যারা এই পেঁয়াজের বাজার দর বাড়ানোর জন্য পেঁয়াজের কৃত্রিম সংকটের সৃষ্টি করছে, তাদের প্রতি কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের দৃৃষ্টি আকর্ষণ করছি । আর আমরা ৩০- ৪০ টাকার পেঁয়াজ ১০০ - ১৫০ টাকায় কিনব না। পেঁয়াজের ব্যবহার কমাব, ব্যয় বাড়াব না। ভারত গতকাল পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করেছে। আমদানিকৃত পেঁয়াজের দাম কোনক্রমেই ৩২ টাকা কেজির বেশি না। তারপরও দাম লাফিয়ে বাড়ছে। এটার জন্য আমাদের দেশীয় ব্যবসায়ীদের অসভ্য মানসিকতাই দায়ী। সেহেতু বর্ধিত দামে প্রচুর পেঁয়াজ কিনে গরীব মানুষকে বিপদে না ফেলে, আসুন পেঁয়াজের ব্যবহার কমাই। ১৫ দিন এই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারলে, পেঁয়াজের ঝাঁজ আমাদের নয়, বরং অশুভ ব্যবসায়ীদের উপর পড়বে।

Monday, 31 August 2020

বণিক সমিতির নির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে উপজেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে অভিনন্দন

বণিক সমিতির নির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে উপজেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে অভিনন্দন


জাতির শ্রেষ্ট সন্তান, জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদের বারবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান, সাচনা বাজার বণিক সমিতির আমৃত্যু সভাপতি সদ্য প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আল আজাদ’র প্রয়াণে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে গতকাল সাচনা বাজার দলীয় কার্যালয়ে বণিক সমিতির স্টেয়ারিং কমিটির এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত আলোচনা সভায় সমিতির সর্ব সম্মতিক্রমে বাবু চিত্ত রঞ্জন পাল কে সভাপতি ও বণিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক,উপজেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম নেতা,সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন রতন’র আস্থাভাজন আসাদ আল আজাদ কে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।
নব নির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জামালগঞ্জ উপজেলা শাখা।
এছাড়াও সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন কাজ সম্পন্ন করায় সমিতির সকল সদস্যের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানায় উপজেলা ছাত্রলীগ।

Thursday, 27 August 2020

সুনামগ‌ঞ্জে অতিরিক্ত বাস ভাড়া আদায় করায় ভ্রাম্যমান আদাল‌তের অ‌ভিযান

সুনামগ‌ঞ্জে অতিরিক্ত বাস ভাড়া আদায় করায় ভ্রাম্যমান আদাল‌তের অ‌ভিযান


সরকার নির্দেশিত ভাড়ার অধিক ভাড়া আদায় এবং স্বাস্থ্য বিধি অনুসরণপূর্বক যাত্রী পরিবহন না করায় সুনামগঞ্জ শহ‌রের দূরপাল্লার বাস কাউন্টা‌রে অ‌ভিযান চা‌লি‌য়ে ভ্রাম্যমান আদালত। মঙ্গলবার রা‌তে শহ‌রের পুরাতন বাস‌স্টেশ‌নের শ্যামলী পরিবহনসহ বেশ ক‌য়েক‌টি দূরপাল্লার বাস‌কে জরিমানা করা হয়।
‌জেলা প্রশাসন সূ‌ত্রে জানা যায়, রা‌তে পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালত অ‌ভিযান চালায়। এসময় সরকার নির্দেশিত ভাড়ার অধিক ভাড়া আদায় এবং স্বাস্থ্য বিধি অনুসরণপূর্বক যাত্রী পরিবহন না করায় ভ্রাম্যমান দূরপাল্লার ক‌য়েক‌টি বাস‌কে আদালত ৫টি মামলায় ৩০,০০০/- টাকা জরিমানা করেন । মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আসিফ আল জিনাত। 
‌জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল আহাদ জানান, জনস্বার্থে এধরণের মোবাইল কোর্ট চলমান থাকবে। সকলকে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিধি অনুসরণ, মাস্ক পরিধান এবং সরকার নির্দেশিত নির্দেশনা প্রতিপালন করার জন্য অনুরোধ করা হ‌য়ে‌ছে।

Wednesday, 26 August 2020

জামালগঞ্জের পল্লীতে শ্মশানঘাটের বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগ

জামালগঞ্জের পল্লীতে শ্মশানঘাটের বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগ


সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলায় মাতারগাঁও গ্রামের শ্মশানঘাট উন্নয়নের নামে সরকারি বরাদ্দ উত্তোলন করে আত্মসাতের পাঁয়তারা করছে বলে ওই গ্রামের লোকজন গত ২৫ আগস্ট ইউএনও বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের বিবরণে জানা যায়, সরকারেরর গ্রাম উন্নয়ন অবকাঠামো (কাবিখা-খাদ্য শস্য) উন্নয়ন খাতে ২০১৯-২০ অর্থবছরে উল্লেখিত গ্রামের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ব্যবহার্য একমাত্র শ্মশানঘাট উন্নয়নের জন্য একটি পিআইসির অনুকূলে ৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে কাজ সম্পন্ন করার নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও কথিত গোপন পিআইসি কমিটি কোন কাজ করেনি।
বিষয়টি গ্রামবাসীর মধ্যে জানাজানি হলে তারা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন গ্রামের কবিন্দ্র তালুকদার সভাপতি ও প্রসিত তালুকদারকে সদস্য সচিব করে ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি পিআইসি কমিটি দেখানো হয়েছে। পিআইসির ওপর ৩ সদস্য হলেন পিযুষ তালুকদার, কিরন তালুকদার ও বিজিত তালুকদার। যা গ্রামের কেউ অবগত নয়। গ্রামের কাউকে না জানিয়ে গোপনে প্রকল্প কমিটি করে বরাদ্দ উত্তোলন ও মেয়াদান্তে কোন কাজ না করেই উত্তোলনকৃত বরাদ্দের সমুদয় টাকা আত্মসাতের পাঁয়তারা করায় এতে গ্রামবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গ্রামবাসী সরকারের বরাদ্দের ব্যাপারে কথিত সভাপতি ও সদস্য সচিবের কাছে জানতে চাইলে তাতে তারা কোন তথ্য না দিয়ে বলেন, আমাদের চাল আমরা উত্তোলন করেছি, তোমাদের জানাতে হবে কেন? সরকার থেকে মাল এনেছি সরকারকে জানাব। এতে করে সরকারি বরাদ্দের লুকোচুরি গ্রামের উত্তেজনা বিরাজ করছে। শ্মশানঘাট বরাদ্দের লুকোচুরি নিয়ে বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অভিযোগ দায়ের করেছেন গ্রামবাসীর পক্ষে বিপুল তালুকদার, পিন্টু তালুকদার, দেবন তালুকদার।
কথিত কমিটির সদস্য পিযুষ তালুকদার বলেন, কমিটি করার সময় একটা দস্তখত নিছিলো। এরপর আর আমি কোন দস্তখত দেই নাই। কিভাবে মাল তুলছে, কোথায় বিক্রি করছে, আমি কিছুই জানি না। কাজ হয়েছি কি না তাও জানি না। কবিন্দ্র কি করছে সেই জানে।
সভাপতি কবিন্দ্র তালুকদার বলেন, বন্যার কারণে মাল নেই নাই। এখন মিস্ত্রি বাও করছি। মিস্ত্রি বলছে দিন ধরলে কাজ করব। মালামাল পুথার মধ্যে রেডি আছে। প্রতিহিংসার আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। কাজ শেষ করে অফিসে মাস্টার রুল দিব।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব বলেন, অভিযোগটি এখনও আমার হাতে এসে পৌঁছেনি। অভিযোগের বিষয়ে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Sunday, 23 August 2020

দুনিয়া দেখার ইচ্ছে থাকলে এই সুযোগ! এবার দিল্লি থেকে লন্ডন যাওয়া যাবে বাসে

দুনিয়া দেখার ইচ্ছে থাকলে এই সুযোগ! এবার দিল্লি থেকে লন্ডন যাওয়া যাবে বাসে


নিজস্ব প্রতিবেদন- দিল্লি থেকে লন্ডন। তাও আবার বাসে। শুনেই চমকে উঠবেন হয়তো। এও কী সম্ভব! পকেটে টাকা আর মনে ইচ্ছে থাকলে সম্ভব। গুরগাঁওযের অ্যাডভেঞ্চার ওভারল্যান্ড নামের একটি ট্যুর অ্যান্ড ট্র্যাভেল সংস্থা এবার দিল্লি থেকে লন্ডন পর্যন্ত বাস সার্ভিস চালু করল। শুনে প্রথমে চমকে উঠেছিলেন অনেকেই। এতটা রাস্তা বাসে যাওয়া কী সম্ভব! কতদিন লাগবে যেতে! খরচই বা কত! কোন রুট ধরেই বা যাওয়া হবে! এমনই হাজারো প্রশ্ন হয়তো আপনারও মনে জাগছে। সব প্রশ্নের উত্তরই আছে। ১৫ অগাস্ট এই বাস সার্ভিস-এর ঘোষণা করেছে সংস্থাটি। এই সংস্থার দুই কর্ণধার তুষার ও সঞ্জয় মাদান এর আগে গত তিন বছর দিল্লি থেকে লন্ডন সড়কপথে গিয়েছিলেন। তাঁরাই এই রোমাঞ্চভরা পদক্ষেপ নিয়ে ফেলেছেন।
দিল্লি থেকে লন্ডনগামী বাস যাবে মোট ১৮টি দেশের উপর দিয়ে। ভারত, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, লাওস, চিন, কিজিঘিস্তান, উজবেকিস্তান, কাজাকিস্তান, রাশিয়া, লাটবিয়া, লিথুয়ানিয়া, পোল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্র, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, ফ্রান্স ও ইউনাইটেড কিংডম। বুঝতেই পারছেন, ঘুরতে ভালবাসেন যারা তাদের কাছে এর থেকে ভাল সুযোগ আর আসবে না। ৭০ দিনের এই সফরে থাকবে সবরকম ব্যবস্থা। সংস্থাটি যাত্রীদের বিভিন্ন দেশে ফোর বা ফাইভ স্টার হোটালে থাকার ব্যবস্থা করে দেবে। এছাড়া এই সফরে যাওয়ার জন্য মোট দশটি দেশের ভিসা থাকা জরুরি। যাত্রীদের ভিসার ব্যবস্থাও করে দেবে সংস্থাটি।  
২০টি সিটের এই বাসে থাকবে বিশেষ ব্যবস্থা। ২০ জন যাত্রী ছাড়াও থাকবেন চারজন। ড্রাইভার, অ্যাসিস্ট্যান্ট ড্রাইভার, অ্যাটান্ডান্ট ও গাইড। একেক দেশে একেকজন গাইড থাকবেন। এছাড়া প্রতিটি সিট হবে বিজনেস ক্লাসের। এই বাস পরিষেবার নাম দেওয়া হয়েছে বাস টু লন্ডন। এবার আসা যাক খরচের ব্যাপারে। বাস টু লন্ডন পরিষেবায় চারটি ক্যাটেগরি থাকবে। কেউ যদি লন্ডন পর্যন্ত না যেতে চান তা হলেও সমস্যা নেই। তিনি কয়েকটি দেশ ঘুরে নিজস্ব উদ্যোগে ফিরে আসতে পারেন। সেক্ষেত্রে একরকম প্যাকেজ ধার্য করা হবে। তবে লন্ডন পর্যন্ত সফর করতে হলে একেকজনের খরচ হবে ১৫ লাখ টাকা। ইমিআই অপশন রয়েছে। যাত্রীরা চাইলে কিস্তিতে টাকা পরিশোধ করার সুযোগ পাবেন। 

Saturday, 22 August 2020

দলীয় প্রতিক থাকছে না আসছে ইউপি নির্বাচনে : Sunamganj Live

দলীয় প্রতিক থাকছে না আসছে ইউপি নির্বাচনে : Sunamganj Live


ডেস্ক রিপোর্ট।
আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলিয় প্রতীক না দেয়ার কথা আওয়ামীলীগের নীতি নির্ধারক কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়। তবে সবাই ঐক্যমত হয়েছেন। কিন্তু সংসদে আইন পাস করা লাগবে। জানুয়ারী মাসের ১০ তারিখে সংসদ বসবে, মার্চ মাসে ইউ,পি, নির্বাচন তাই সংসদে পাস করে নিবেন বলে জানা গেছে।
আওয়ামীলীগ সরকার তৃণমুলে আর দলিয় কোন্দল সৃস্টি করতে রাজি নয়। কারন দলিয় নোমিনেশন দিলে দলের বিদ্রহী প্রার্থী সমস্যা করে, এই ভাবে সারা দেশে দলের ভিতরে সাংগঠনিক অব কাঠামো ভেংগে যাচ্ছে। তাই সামাল দিতে সরকার কঠিন সমস্যায় পরে, এই কারনে এবার দলিয় প্রতীক আর না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সরকার।
অন্য দিকে ইউ,পি, নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে যে কথা রটানো হচ্ছে তা গুজব বলে স্থানিয় সরকার মন্ত্রনালয় বলেছেন। কারন সরকার এই ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত নেন নাই।
মুল কথা তৃণমুল থেকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে হবে। দলিয় প্রার্থী আর দেয়া হবেনা বলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন এবং আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতারা ঐক্য মত হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আজকের বৈঠকে।
কৈতক হাসপাতালে হচ্ছে ট্রমা সেন্টার, উদ্যোগ এমপি মানিকের : Sunamganj Live

কৈতক হাসপাতালে হচ্ছে ট্রমা সেন্টার, উদ্যোগ এমপি মানিকের : Sunamganj Live


সিলেট সুনামগঞ্জ সড়কের পাশে কৈতক হাসপাতালের ভিতরে একটি ট্রমা সেন্টার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই এর ভিত্তিরস্তর স্থাপন করা হবে। স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এটি নির্মিত হবে। এতে ডাক্তার ও নার্সদের জন্য দুটি কোয়ার্টারসহ ট্রমা সেন্টারের জন্য দুটি ভবন নির্মাণ করা হবে।
যার উদ্যোক্তা হিসেবে রয়েছেন সুনামগঞ্জ ৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মুহিবুর রহমান মানিক।  হাওরবাসীর কাছে তিনি নিজেই বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউসে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা জানান।
এ সময় এমপি মানিক বলেন, সিলেট সুনামগঞ্জ সড়কের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন ছোট বড় সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ আহত নিহত হচ্ছেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য এই ট্রমা সেন্টার। এটি দেশের আরো কয়েকটি স্থানে রয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন।
মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন- সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সাংবাদিক নেতা লতিফুর রহমান রাজু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আখতারুজ্জামান সেলিম, আওয়ামী লীগ নেতা মোশাহিদ আলী, ইউপি চেয়ারম্যান কাজী আনোয়ার হোসেন আনু, আমিরুল হক, যুবলীগ নেতা সায়েম, সুমন, মুহিব, জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসকাওয়াত জামান ইন্তি প্রমুখ।
চলছে এইসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি, প্রস্তুত মন্ত্রণালয়

চলছে এইসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি, প্রস্তুত মন্ত্রণালয়

সুনামগঞ্জ লাইভ ডেস্ক::২০২০ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা বা এইচএসসি পরীক্ষা প্রতিবছরের ন্যায় এপ্রিল মাসেই হওয়ার কথা ছিলো। করোনা ভাইরাসের কারণে তা অনিশ্চয়তার মধ্যে পরে যায়। এতোদিন পরীক্ষা বন্ধ থাকার পর এখন পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।  এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আকরাম আল হোসেন। খবর ভয়েচে ভেলে বাংলার।এ বিষয়ে সচিব বলেন, ‘‘সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আমাদের ডেকে কথা বলেছেন। সেখানে মূখ্য সচিব ছিলেন এবং আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তিনজন সচিব ছিলাম। সেখানে নেয়া সিদ্ধান্তের আলোকেই আমি পিএসসি পরীক্ষা না নেয়ার পক্ষে আজ (বুধবার) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মতামত পাঠিয়েছি। আর জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা না নেয়ার জন্যও মতামত পাঠানো হচ্ছে। তবে এইচএসসি পরীক্ষা হবে। সেটা দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কিভাবে নেয়া যায় তার সারসংক্ষেপ তৈরি হচ্ছে। পরীক্ষার কেন্দ্র বাড়িয়ে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা হবে৷ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই এনিয়ে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয়া হবে। পঞ্চম এবং অষ্টম শ্রেণিতে পাবলিক পরীক্ষা না হলেও স্কুলগুলো খোলার পর নিজেরা সমাপনী পরীক্ষা নিতে পারবে।’’মহামারি করোনা ভাইরাস বাংলাদেশে হানা দেয়ার আগে বাংলাদেশে মাধ্যমিক পরীক্ষা (এসএসসি)  আগেই অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই সঙ্গে ফল প্রকাশও হয়েছে৷ কিন্তু এপ্রিলে অনুষ্ঠেয় জেএসসি (জুনিয়র সার্টিফিকেট পরীক্ষা) এবং এইচএসসি পরীক্ষা আটকে গেছে।গত ১২ আগস্ট মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে বলা হয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা এবং পরীক্ষা নেয়ার ব্যাপারে মন্ত্রণালয় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়েছে। সেই সব পরামর্শ নিয়ে কাজ হচ্ছে৷ কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি৷ কোনো পরীক্ষার তারিখও নির্ধারণ হয়নি।রাজশাহীর পুঠিয়া এলাকার ইকবালুল বাশার খানের দুই সন্তানের একজন জেএসসি এবং আরেকজন এইএসসি পরীক্ষার্থী। তিনি জানান, ‘‘যদি সামাজিক দূরত্ব মেনে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা সরকার নিতে পারে তাহলে পরীক্ষা নেয়া যেতে পারে। কিন্তু সেটার জন্য কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে তা আগে প্রকাশ করা উচিত৷ আর এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া ঠিক হবে না।’’অন্যদিকে অভিভাবকদের অনেকেই বলছেন, এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিলেও তারা সন্তানদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে পাঠাবেন না৷ অভিভাবক ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু বলেন, ‘‘করোনার সংক্রমণ এখনও কমেনি৷ তাই কোনোভাবেই আমরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখন খোলার পক্ষে নয়৷ বিশেষ করে যারা শিশু তারা তো সামাজিক দূরত্বই বোঝে না৷ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারপর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার জন্য আমরা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছি৷’’তবে জিয়াউল কবির দুলু মনে করেন করোনা সংক্রমণ কমে এলে নভেম্বরের দিকে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া যেতে পারে৷ আর পিএসসি ও জেএসসি পরীক্ষা নেয়ার দরকার নাই৷
ছবি: ইন্টারনেট


Wednesday, 19 August 2020

সিলেট-সুনামগঞ্জে সড়কের বেহাল অবস্থা : Sunamganj Live

সিলেট-সুনামগঞ্জে সড়কের বেহাল অবস্থা : Sunamganj Live

সিলেট :আমবাড়ী বাজার এলাকায় এলজিইডি সড়কের ধসে যাওয়া অংশ : সুনামগঞ্জ লাইভ
 


সিলেটে তিন দফা বন্যায় এবার গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক স্থানে সড়কের চিহ্ন মুছে গেছে। স্থানে স্থানে গর্তে ভরা সড়ক। বন্যার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তাঘাটের ভাঙনের দাগ স্পষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ ও সিলেট দুই জেলায় ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক। বিভিন্ন পাকা, আধাপাকা ও ব্রিক সলিং সড়ক, সেতু ও সেতুর সংযোগ সড়ক পানির তোড়ে ভেসে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, আগে বন্যা হলে বাধাহীনভাবে পানি ভাটির দিকে নেমে যেত। প্রাকৃতিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা হারিয়ে যাওয়ার কারণে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রাও বেশি। তারা বলেন, বন্যার ভয়াবহতা ও পানি নিষ্কাশনের সহজ পথের কথা না ভেবেই রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট তৈরি করা হয়। ফলে নির্মিত অবকাঠামোর ক্ষতি বাড়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিলেটে এলজিইডির আওতাধীন ৭ হাজার ৫১০ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে ৫২১ কিলোমিটার সড়কের ক্ষতি হয়। এলজিইডি সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল লতিফ জানান, সিলেট জেলায় মোট ৫২১ কিলোমিটার সড়ক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ২৬০ কোটি টাকা।

সুনামগঞ্জ জেলার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুব আলম বলেন, গ্রামীণ রাস্তাঘাট যে হারে ভেঙেছে তা না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। সুনামগঞ্জ-দোয়ারাবাজার-ছাতক সড়ক বিভিন্ন স্থানে ভেঙে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সুনামগঞ্জ জেলার ২২টি সড়কে ৬০০ কিলোমিটার সড়ক বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ৪০টি ব্রিজ-কালভার্ট, ৩০টি ভিলেজ প্রটেকশন কাজ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সিলেটস্থ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আলী হোসেন চৌধুরী সোমবার ইত্তেফাককে বলেন, বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সুনামগঞ্জ ও সিলেটের রাস্তাঘাট আপাতত চালুর বিষয়ে উচ্চপর্যায়ে কথা হয়েছে। এ পর্যায়ে ২০০ কোটি টাকার প্রয়োজন। তিনি বলেন, মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত সুনামগঞ্জের জন্য আলাদা প্রজেক্ট করতে বলা হয়েছে। আমরা সেই চেষ্টা করছি। সুুনামগঞ্জ জেলায় এ পর্যন্ত সাড়ে ৩০০ কোটি ও সিলেট জেলায় ২৬০ কোটি টাকার ক্ষতি বলে প্রাথমিক ধারণা করা হয়।

সড়ক সংস্কারের দাবিতে সিলেট চেম্বারের চিঠি

এদিকে, সিলেট-বিশ্বনাথ-জগন্নাথপুর সড়ক সংস্কারের দাবিতে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ে সিলেট চেম্বার পত্র প্রেরণ করেছে। চেম্বার সভাপতি আবু তাহের মো. শোয়েব লিখেছেন, সড়কটির বিশ্বনাথ-জগন্নাথপুর অংশের প্রায় ৩০ কিলোমিটার রাস্তা বর্তমানে যানচলাচলের অনুপযোগী।

Tuesday, 18 August 2020

জামালগঞ্জে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প : Sunamganj Live

জামালগঞ্জে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প : Sunamganj Live

 

মো. ওয়ালী উল্লাহ সরকার, জামালগঞ্জ ::
কালের পরিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে জামালগঞ্জ উপজেলার মৃৎশিল্প। বিভিন্ন সমস্যার কারণে আজ সঙ্কটের মুখে এই শিল্প। সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলায় প্রায় শত বছরের ঐতিহ্য বহন করা বেহেলী ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের মৎশিল্প আজ বিলুপ্তির পথে। ডিজিটাল যুগে পদার্পণ করায় মেলামাইন ও প্লাস্টিকের তৈরি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে মাটির তৈরি মৃৎশিল্পীদের সাংসারিক বিভিন্ন ধরনের ব্যবহার্য বস্তু।

বিজ্ঞানের জয়যাত্রা, প্রযুক্তি ও উন্নয়নে নতুন নতুন শিল্প সামগ্রীর প্রসারের কারণে বাজার অনুকূলে না থাকায় এই শিল্প আজ হুমকির মুখে। একদিকে উন্নত প্রযুক্তি, মেলামাইন সামগ্রীর সাথে প্রতিযোগিতা, অন্যদিকে করোনার লগডাউনের কারণে বাংলা নববর্ষের মেলা, পণতীর্থ মেলা না হওয়ায় বিক্রি করতে পারেননি তাদের তৈরি খেলনা ও তৈজসপত্র। তাই প্রতিটি ঘরে ঘরে কার্টুন ভর্তি করে রেখে দেওয়া হয়েছে তাদের কষ্টার্জিত তৈরি আসবাবপত্র।

উপজেলার বদরপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, এই গ্রামের অধিকাংশ লোকই পাল সম্প্রদায়ের। একসময় এই গ্রামের কয়েকশ’ পরিবার মৃৎশিল্পের সাথে জড়িত ছিল। আধুনিকতার ছুঁয়া ও কালের পরিক্রমায় এখন মাত্র শতাধিক পরিবার তাদের পূর্ব পুরুষদের ঐতিহ্যবাহী পেশা অনেক কষ্টের মাঝেও ধরে রেখেছেন। বর্তমানে তাদের অবস্থা খুবই নাজুক।

বদরপুর গ্রামের মৃৎশিল্পী পুষ্প রাণী পাল, আরতি রানী পাল, সবিতা রানী পাল, অনামিকা পাল, অখিল চন্দ্র পাল, আশা রানী পাল, জিতেন্দ্র চন্দ্র পাল, সঞ্চিতা রানী পাল জানিয়েছেন, একসময় মাটির তৈরি হাড়িপাতিল, কলসি, রঙিন ফুলদানি, ফুলের টব, হাতি-ঘোড়া, নানা রঙের পুতুল ও বিভিন্ন সামগ্রী আমরা প্রতিটি বাড়িতে তৈরি করতাম। আর পুরুষরা বিভিন্ন হাটবাজার, মেলা ও বিভিন্ন পূজায় তা বিক্রি করতেন। তাতে আমরা অনেক লাভবান হতাম। তখন সংসারের চাহিদা মেটানো সম্ভব হতো। ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ স্বপ্ন দেখতাম। কিন্তু বর্তমানে প্লাস্টিক মেলামাইন ও অ্যালুমিনিয়ামের চাপে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের স্বপ্ন। তার ওপর মড়ার ওপর খারার ঘা হিসেবে করোনার লকডাউনে সবকিছু বন্ধ করে দেওয়ায় আমাদের আয় নেই বললেই চলে। নিদারুণ কষ্টে চলছে দিনকাল। এই পরিস্থিতিতে পাল সম্প্রদায় পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্যবাহী পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
এই গ্রামের মৃৎশিল্পী পুষ্প রানী পাল বলেন, এই পেশায় নেই কোনো সরকারি সহায়তা। ব্যাংক ঋণ বা অন্য কোনো সহযোগিতা। তাই বাধ্য হয়েই ঘুটিয়ে নিতে হচ্ছে আমাদের প্রাচীন ঐতিহ্যবা পেশা। গ্রামের অনেকে এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন।
মৃৎশিল্পী জিতেন্দ্র চন্দ্র পাল বলেন, বর্তমানে মাটির দাম, লাকড়ি, রঙ ও আনুষাঙ্গিক জিনিসপত্রের দাম বেশি হওয়ায় তৈরিতে খরচ অনেকটা বেড়ে গেছে। আমরা এখন এই পেশা ধরে রাখতে পারব কি না সংশয়ে আছি।

তিনি আরও জানান, বিসিক ব্যাংক বা অন্যকোনো সংস্থা যদি স্বল্প সুদে ঋণ দিয়ে সহযোগিতায় এগিয়ে আসত তাহলে বাপদাদার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প ধরে রাখা সম্ভব। নতুবা আস্তে আস্তে বিলীন হয়ে যাবে আমাদের এই পেশা।