Showing posts with label মতামত. Show all posts
Showing posts with label মতামত. Show all posts

Friday, 17 November 2023

দিরাইয়ে তফসিলকে স্বাগত জানিয়ে শোডাউন, সেতু ভেঙে খাদে পড়ে আহত ১০ 

দিরাইয়ে তফসিলকে স্বাগত জানিয়ে শোডাউন, সেতু ভেঙে খাদে পড়ে আহত ১০ 

নিজস্ব প্রতিবেদক : সুনামগঞ্জ দিরাইয়ে চামটি খালের ওপরের কাঠের সেতুটি ভেঙে পড়ে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৬-১১-২০২৩) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দিরাই পৌর শহরের নিকটবর্তী চান্দপুর স্লুইসগেট সংলগ্ন এই সেতুটি ভেঙে পড়ায় উপজেলা সদরের সঙ্গে করিমপুর ও জগদল ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষিত তফসিলকে স্বাগত জানিয়ে দিরাই শাল্লা আসনে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপকমিটির সাবেক সদস্য ড. সামছুল হক চৌধুরীর অনুসারীরা মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করে। শোভাযাত্রাটি জগদল ইউনিয়ন ঘুরে করিমপুর ইউনিয়নের চান্দপুর গ্রাম হয়ে উপজেলা সদরে আসছিল। সেতুটি অতিক্রম করার সময়ে হঠাৎ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। এতে সেতুতে থাকা পথচারী ও শোভাযাত্রায় অংশ নেয়া আওয়ামী লীগের কয়েকজন কর্মী মোটরসাইকেলসহ খাদে পড়ে আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।
দিরাই হাসপাতাল সূত্র জানায়, সেতু ভেঙে দূর্ঘটনায় আহত ৫ জন সেখানে চিকিৎসা নিয়েছেন। এঁরা হলেন, নগদীপুর গ্রামের গৌছ মিয়ার ছেলে জুবায়ের (২০), রুবেল মিয়ার ছেলে লোকমান (২০), টুক দিরাই গ্রামের মহাকান্ত পালের ছেলে প্রিন্স পাল (১৮), করিমপুর গ্রামের ইসমাইল মিয়ার ছেলে লুৎফর রহমান (৬০) এবং উত্তর চান্দপুর গ্রামের সেলিম আহমেদের শিশু কন্যা ফারিহা (৯)।
আহত লুৎফর রহমান বলেন, আমার নাতনি ফারিহাকে নিয়ে আমার বাড়ি থেকে ওদের বাড়ি উত্তর চান্দপুর গ্রামে যাচ্ছিলাম। আমরা হেঁটে ব্রীজ পাড় হচ্ছি। এমন সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল মিছিল নিয়ে ব্রীজে ওঠলে ব্রীজটি ভেঙে পড়ে। আমার নাতনিসহ নিচে পড়ে যাই। আমার পা ভেঙে গেছে। নাতনিও জখম হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ড. সামছুল হক চৌধুরী বলেন, আমার শোভাযাত্রাটি জগদল ইউনিয়ন ঘুরে উপজেলা সদরে আসছিলো। পথিমধ্যে এ দূর্ঘটনা ঘটে। তিনি এমন সেতু এলাকায় থাকায় বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, আমি ঢাকায় আছি। ফোনে বলে দিয়েছি, আহতদের সবাইকে যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২২ সালের বন্যায় দিরাইয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষতি হয়। ওই সময়ে ক্রিশ্চিয়ান এইডের সহায়তায় (এনজিও) উত্তরণ ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে চান্দপুর গ্রামের চামটি খালের ওপর ও দিরাই-রজনীগঞ্জ সড়কের জয়নগর অংশে দুটি কাঠের সেতু নির্মাণ করে। ৫৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৮ফুট প্রস্থ করে একই পরিমাপে নির্মিত সেতু দুটির পিলার হিসেবে গাছের মূল ব্যবহার করা হয়। পাটাতন দেয়া হয় কাঠের তক্তা। ২০২২ সালের ৭ সেপ্টেম্বর সেতু দুটির উদ্বোধন করেন দিরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুর রহমান মামুন ও করিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লিটন চন্দ্র দাস। নির্মাণের ১ বছরের মাথায় সেতুটি ভেঙে পড়ে।

Friday, 25 February 2022

সিলিং ফ্যানে ঝুলছিল দিরাইয়ের রনদীরের মরদেহ, বিছানায় চিরকুট- Sunamganj Live

সিলিং ফ্যানে ঝুলছিল দিরাইয়ের রনদীরের মরদেহ, বিছানায় চিরকুট- Sunamganj Live


 নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় একটি ভাড়া বাসা থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দিরাইয়ের রনদীর তালুকদারের (৩৪) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়। তাতে লেখা ছিল, ‘আমার মৃত্যুর জন্য ম্যানেজার দায়ী।’

বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে পুলিশ ঝুলন্ত মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে কোনো এক সময়ে আত্মহত্যার ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

রাতে দুর্গাপুর থানার পরিদর্শক (ওসি-তদন্ত) মীর মাহাবুবুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ এবং বিছানায় পড়ে থাকা চিরকুটটি উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

এদিকে পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার শমিপুর গ্রামের মৃত কৃষ্ণধন তালুকদারের ছেলে রনদীর তালুকদার। তিনি দুর্গাপুর উপজেলার বাকলজোড়া ইউনিয়নের কুমুদগঞ্জ শাখায় একটি এনজিওর মাঠকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। তিনি ওই ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের বাচ্চু মিয়ার বাসায় ভাড়া থাকতেন। প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে বৃহস্পতিবার বিকেলে বাসায় আসেন রনদীর। এরপর সন্ধ্যার দিকে পাশের বাসার একজন তার ঘরে এসে দেখতে পান রনদীর মরদেহ ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে। এ সময় তিনি চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা ছুটে এসে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

Wednesday, 14 October 2020

জামালগঞ্জ উপজেলা উপনির্বাচন - ট্রাম কার্ড ভীমখালী ইউনিয়ন |Sunamganj Live

জামালগঞ্জ উপজেলা উপনির্বাচন - ট্রাম কার্ড ভীমখালী ইউনিয়ন |Sunamganj Live


আগামী ২০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে জামালগঞ্জ উপজেলা উপ নির্বাচন।  সময় যতই ঘনিয়ে আসছে নির্বাচনী প্রচারনা তুঙ্গে উঠছে , তৃণমূল পর্যায়ে চলছে নির্বাচনের চুল ছেড়া বিশ্ল্লেষণ।  কথা হয় অনেক তৃণমূল নির্বাচনী বিশ্ল্লেষকদের সাথে। 
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪ জন প্রার্থী।এর মধ্যে দুইজন স্বতন্ত্র 
প্রার্থী তাও একই পরিবারের সদস্য। প্রার্থীদের নিজস্ব ইউনিয়নের বাহিরে প্রধান টার্গেট হচ্ছে বিএনপির ঘাঁটি খ্যাত ভীমখালী ইউনিয়ন।তৃণমূল নির্বাচনী বিশ্ল্লেষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় -কাস্টিং ভোটের উপর টার্গেট করে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী নুরুল হক আফিন্দি তাঁর নিজ ইউনিয়ন সাচনা বাজারের ভোট ব্যাংকে ব্যাক্তি ইমেজ ও দলীয় ভোটের হিসাব করলে দেখা যায় কাস্টিং ভোটের ৬০% ধানের শীষের ২০% নৌকার এবং ১৫% আনারসের আর ৫% ভোটে ঘোড়াতে পড়বে।  সাচনাবাজার ইউনিযনের নুরুল হক আফিন্দীর ৬০% ভোট এর মধ্যে ১০% ভোট আসবে আওয়ামীলীগের ভোটে থেকে কারন রেজাউল করিম শামীম মনোনয়ন না পাওয়ার কারনে অনেক আওয়ামীলীগের সমর্থিত শামীম অনুসারীদের ভোট চলে যাবে ধানের শীষে এমনটিই তৃণমূল বিশ্ল্লেষকদের ধারণা। 
জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের হিসাব করলে দেখা যায় এখানে আনারস ও নৌকার ভোট বেশি।  ৪০ % ভোট পাবে নৌকা, ৩০ % ভোট পাবে আনারস, ২০% ভোট পাবে ধানেরশীষ এবং ১০% ভোট পাবে ঘোড়া। জামালগঞ্জ উত্তর উনিয়নের ভোট হিসাব করলে সমান সমান ভোটে পাওয়ার আশংকা ধানেরশীষ  ৩০% , নৌকা ৩০% ,আনারস ৩০% ও ১০% % ভোট পাবে ঘোড়া (কিছুটা তারতম্য থাকবে )।  ফেনারবাক উনিয়নের ভোট বন্টন খুব গুরুত্বপূর্ণ, হিন্দু সমপ্রদায় বেশি ও বর্তমান আওয়ামীলীগ মহিলা সংরক্ষিত আসনের এমপি উক্ত ইউনিয়নের হওয়ার কারনে নৌকার ভোট ব্যাংক সব চাইতে বেশি।    ফেনারবাক উনিয়নের ভোট হিসাব করলে দেখা যায় ৫০% ভোট নৌকার , ৩০% ভোট ধানের শীষের , ১৫%ভোট আনারসের ও ৫% ভোট ঘোড়ার। বেহেলী ইউনিয়নেও রয়েছে ধানের শীষ ও নৌকার সমান ভোট তবে এখানেও নৌকার কিছু ভোট এসে ধানের শীষে যুক্ত হবে , এতে ধানের শীষ ৫০% , নৌকা ৪০% , আনারস ১০% ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা  আছে। ভীমখালী ইউনিয়ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হট পয়েন্ট স্বভাবজাত কারণে বিএনপির ভোট ব্যংক এই উনিয়নের , ২য় স্থানে রয়েছে আওয়ামীলীগ।  ভীমখালী ইউনিয়নে কট্টর আওয়ামীলীগের  পরিমান কম হলেও নব্য আওয়ামীলীগ এর সংখ্যা বেড়েছে তবে রেজাউল  করিম শামীমের অনুসারীদের ভোট আওয়ামীলীগের ব্যাংকে যাবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।  উক্ত ভোট গুলো চলে যেতে পারে ধানের শীষ ও আনারসে যদি তাই হয় তাহলে ভীমখালী ইউনিয়নে সবচেয়ে কম ভোট পাবে নৌকা।  এখানে হিসাব করলে দেখা যায় কাস্টিং ভোটের ৫০% ভোট পাবে ধানের শীষ ,  ২৫% ভোট পাবে আনারস , ২০% ভোট পাবে নৌকা ও ৫% ভোট পাবে গোড়া। তৃণমূল পর্যায়ের নেতা কর্মীদের সাথে কথা বলে এমন হিসাবই পাওয়া যায়। গড় হিসাব করলে দেখা যায় ধানের শীষ বিপুল ভোটে নির্বাচনে জয় লাভ করবে। তবে জগন্নাথপুর পৌরসভা উপনির্বাচনের হাল চিত্র লক্ষ্য করলে দেখা যায় প্রশাসনিক প্রভাবে নৌকা পাশ করে।  এরকম যদি নিরপেক্ষ নির্বাচন না হয় তাহলে কোনো  হিসাবেই কাজ হবে না -নৌকারই জয় হবে। 
তবে ভীমখালী ইউনিয়নের নির্বাচনী হিসাব নিয়ে এখনো ধুয়াঁশা রয়ে গেছে প্রত্যেক প্রার্থীরই টার্গেট ভীমখালী ইউনিয়ন , বিশ্ল্লেষকদর মতে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ভীমখালী ইউনিয়নে যে প্রাথী সবচেয়ে বেশি ভোট পাবে তাঁরই জয়ের আশংখা বেশি।  সব প্রার্থীরই টার্গেট এখন এই হট পয়েন্ট।  তাই নির্বাচনী প্রচারনার দৌড়ঝাঁপ ভীমখালী ইউনিয়নেই বেশি।  উপরোক্ত বিশ্ল্লেষণ শুধু মাত্র একটি ধারণা ভিত্তিক বিশ্ল্লেষণ। 

লেখক : আরিফ মাহফুজ , সাংবাদিক -কলামিস্ট।

Thursday, 8 October 2020

কালো পতাকা মিছিল: আরিফ মাহফুজ |Sunamganj Live|সুনামগঞ্জ লাইভ

কালো পতাকা মিছিল: আরিফ মাহফুজ |Sunamganj Live|সুনামগঞ্জ লাইভ


নির্বাক আর কিংকর্তব্য বিমূঢ় অবস্থায় কাটছে দিনগুলো।  প্রশ্ন জাগে এটাই কি আমার দেশ ? এটাই কি আমার জন্মভূমি ? প্রতিদিনই ফেইসবুক ওয়ালে পোষ্ট দিতে চাই কিন্তু পারি না।  ফেইসবুক এর পোষ্ট অপশন জিজ্ঞেস করে 'হোয়াটস ইন ইওর মাইন্ড ' -তাকে বলি আমার মাইন্ডে তো অনেক কিছুই আছে  কিন্তু তুমার বক্সে লিখতে পারিনা , লিখলে অনেকেই মাইন্ড করবে।  সব কি আর লিখা যায় ? না যায় না , কিছু ধূসর রয়ে গেছে সমাজে যাদের জন্য কলমও অনেক সময় থমকে যায়। লিখতে গিয়েও লিখিনা।  সামাজিক দায়বদ্ধতা প্রচন্ড ভাবে দংশন করে প্রতিনিয়ত।  বাধ্য করে দেয় কলম ধরতে।  একের পর এক গণধর্ষনের মত ন্যাক্কার জনক ঘটনা ঘটছে  দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। নারীর প্রতি কেন এই সহিংসতা ? ধর্ষনের রঙ্গ মঞ্চ আজকের বাংলাদেশ। ধর্ষনের হিড়িক যা ইতি পূর্বে কখনোই দেখা যাই না শুধু ১৯৭১ সাল ব্যাতীত।  ১৯৭১ সালে ধর্ষন  করেছে পাকিস্তানি সেনারা আর সাথে ছিল গাদ্দার কিছু পিচাশ অমানুষ যাদেরকে আমরা রাজাকার বলি।  রাজাকের বিচারও এদেশে হয়েছে দলীয়করনের মধ্যেদিয়ে। যাই হউক সেদিকে গিয়ে লাভ নেই।   বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি (বিএনডব্লিউএলএ) সম্মীক্ষা মতে শুধু চলতি বছরের ধর্ষনের হিসাব দেখেই মস্তিস্ক হ্যাং হয়ে যায়।  চলতি বছরে গত আট মাসে সারা দেশে ৮৯২ টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ১৯২ টি ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে।  ৪১ জন ধর্ষণের পরে আহত অবস্থায় মারা গেছেন, ৯ জন ধর্ষণের পরে আত্মহত্যা করে মারা গেছেন বলে  জানা গেছে। ধর্ষন ছাড়াও নারী নির্যাতনের হিসাব অগনিত।  স্কুল ছাত্রী , গৃহবধূ এমনকি ৭৫ বছরে বৃদ্ধাও এর  বাহিরে নয়। ধর্ষনের আইনগত বিচার সঠিক সময়ে না হওয়ার কারনেই  ঘটনার পরিসংখ্যান দিনদিন বাড়ছে। দেশের আইন অনুযায়ী ধর্ষন মামলার বিচার  ১৮০ দিনের মধ্যে হতে হবে কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না।  ধর্ষনের বিচার ত্বরান্বিত করার জন্য নারীবাদী নেত্রীদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।  বর্তমানে ঘটেযাওয়া ধর্ষনের প্রতিবাদে সারা দেশের স্কুল-কলেজ - বিশ্বাবিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রী সহ সাধারণ মানুষ আজ রাস্তায় নেমেছে।  কিন্তু নারীবাদী নেত্রীরা চুপ করে লুকিয়ে আছেন। কিন্তু কেন ? কার ভয়ে বা কার সমর্থনে তাঁরা নিশ্চুপ এটা আজ দেশের মানুষের কাছে প্রধান প্রশ্ন।  তাহলে আজ যারা বেপরোয়া ধর্ষক তাদের সাপোর্ট করতে কি তাঁরা আজ নীরব ?  সবগুলো ধর্ষনের নায়ক আজকের ছাত্রলীগের সোনার ছেলেরা।  পেছনে রয়েছে আওয়ামী গড ফাদাররা।  সাতক্ষীরা থেকে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগীকে রক্ত জোগাড় করে দেওয়ার কথা বলে তার স্ত্রীকে ধর্ষণ, মেসের রুমের টাইলস পরিষ্কার করার কথা বলে কেরানীগঞ্জে নারীকে ধর্ষণ, খাগড়াছড়িতে ডাকাতি করতে ঘরে ঢুকে এক প্রতিবন্ধী তরুণীকে দলবেঁধে ধর্ষণ, খাগড়াছড়িতে চাকমা সম্প্রদায়ের এক নারীকে ধর্ষন , সিলেটের এমসি কলেজে গণধর্ষন , নোয়াখালীর আলোচিত ধর্ষণ সহ সবগুলো ধর্ষনেই ছাত্রলীগ কর্মীরা অভিযুক্ত। সরকারের মদদেই আজ বেপরোয়া ছাত্রলীগ-যুবলীগ। লাগামহীন দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে কারি কারী টাকা আয় করে বেসামাল তাঁরা। ক্ষমতা আর টাকার গরমে দিশেহারা।  তাঁরা না মানে প্রশাসন না মানছে পারিবারিক আদর্শ। বেশিরভাগই পিতামাতার অনুগত নয়।  ছাত্রলীগ কর্মীরা অনুগত আওয়ামীলীগ নেতাদের অনুগত।  নেতারা তাদের স্বার্থে ব্যবহার করছে ছাত্রলীগ যুবলীগ কর্মীদের। আর এসব নেতাদের আশ্রয় -পশ্রয় দিচ্ছে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের মন্ত্রী এমপিরা। সরকারের সীমাহীন দুর্নীতির চিত্র আজ ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।  শিক্ষা, চিকিৎসা ,স্বাস্থ্য ,অর্থনীতি সবক্ষেত্রে হরিলুট যার তালিকা কাগজ কলমে  ধরে না। প্রশাসনিক লেভেলেও দুর্নীতি- অনিয়ম চরম পর্যায়ে।  মানুষের জান  মালের নিরাপত্তা আমরা হারিয়েছি অনেক আগেই কিন্তু শেষ পর্যায়ে হারালাম মা-বোনদের ইজ্জতের নিরাপত্তা। যে রাষ্ট্র নারীর ইজ্জত রক্ষায় আহাজারি করছে সে রাষ্ট্রের অধিকর্তারা রাষ্ট্রের জন্য কি পদক্ষেপ নিচ্ছেন ? মন্ত্রী।,এমপি, আমলাদের বউ-বোনদের তো কোনো নিরাপত্তার অজুহাত নেই কারন তাঁদের  লালিত ছেলেরাই তো ধর্ষণে সেঞ্চুরি করছে তাই মন্ত্রী এমপিদের বউ-বোনদের নিরাপত্তা ১০০% . কিন্তু যে সাধারণ জনগণের ভোটে এমপি মন্ত্রী হলেন , যে সাধারণ নাগরিকদের টাকায় দেশ চলে ,আমলারা চলে তাঁদের জীবন ও ইজ্জতের কোনো নিৰাপত্তা নাই কেন ? বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করা হচ্চে চরম ভাবে তাই বিচার বিভাগ অসহায় তা না হলে ১৮০ দিনে যে বিছার কার্য সম্পাদন হওয়ার কথা সেটা সম্পন্ন হতে বছরের পর বছর লাগবে কেন ?  বিচারহীনতার কারণে বেড়েই চলছে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।  ''নো অ্যাকশন নো রিঅ্যাকশন '' প্রতিচ্ছবি  প্রতিফলিত হচ্ছে।  আজকে সরকার যদি সঠিক থাকতো ধর্ষণতো  দূরের কথা মেয়েদের চোখের দিকেও তাকাতে পারতো না ছাত্রলীগ।   বিচারকার্যে রাজনৈতিক প্রভাব, নৈতিকতা ও সামাজিক অবক্ষয়ও এর জন্য  সম্পূর্ণভাবে দায়ী ।  রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা  কমিয়ে , এবং বিদেশী অর্থায়নে চলা এনজিও কর্মীদের জোরালো ও সোচ্ছার ভূমিকা পালন করতে হবে এসব অপরাধ ঠেকানোর জন্য ,প্রত্যেক মানবাধিকার কর্মীকে সরকারের বন্ধনা -ভজনা ত্যাগ করতে হবে।  তবে সামাজিক দায়বদ্ধতা না এড়িয়ে প্রতিটি পরিবারের অভিভাবকদেরও দৃষ্টি দিতে হবে নিজের ছেলে সন্তানের প্রতি।  পারিবারিকভাবে নাগরিক সতর্কতা একান্ত প্রয়োজন।  ধর্ষণ যে কোনো  সময় বা যে কোনো স্থানেই হউক না কেন তার মূল্য সমান , নির্দিষ্ট কোনো স্থানের , জেলার , শহরের ধর্ষণকে ভিন্ন গুরুত্ব দেবার প্রয়োজন নেই।  নারীর সম্মান সবখানে -সবারই সমান। নোয়াখালী ও সিলেটের ধর্ষণে বিচার কঠোর হস্তে হবে বলে আমাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেছেন -এরকম আবাল মার্কা কথা একদম ঠিক না -নোয়খালী আর সিলেটের ধর্ষণ কোনো আলাদা বিষয় নয় , অন্নান্য  ধর্ষণ একই বিষয় , অপরাধ সমান।  সব ধর্ষণের অপরাধীদের দ্রুত বিচার করুন।  বিচার বিভাগকে স্বাধীন করে দিন ,আর ছাত্রলীগ -যুবলীগকে সামাল দিন তাহলেই দেখবেন সব ঠিক হয়ে গেছে।  আর না হয় আপনাদের সোনার  ছেলেদের দ্বারা হঠাৎ  দেখবেন আপনাদের    মেয়ে -বোন-বউ ধর্ষিত হয়ে গেছে।  আজ আন্তর্জাতিক গণ মাধ্যমে উঠে আসছে লোমহর্ষক গণধর্ষণের ঘটনা যা বাঙালি জাতির জন্য লজ্জা। ধর্ষণের প্রতিবাদে আজ সমস্ত জাতি ফুঁসে উঠেছে , মানুষের পিঠ আজ দেয়ালে  আটকে গেছে  , বাঙালি জাতি আবারো দেখাবে  অন্যায়ের প্রতিবাদের ফসল কিভাবে আন্তে হয়। অন্যায়ের  প্রতিবাদের ফসল আমাদের মাতৃভাষা ,  অন্যায়ের প্রতিবাদের ফসল আমাদের স্বাধীনতা।  যে যেখানে আছে কালো অন্যায়ের প্রতিবাদ করে ছিনিয়ে আনতে হবে আরেকটি ফসল -বাঁচাতে হবে আমার  বোনের ইজ্জত, আনতে আমার মা বোনদের ইজ্জতের নিরাপত্তা পতাকা . তাই কালো পতাকা মিছিল হবে -ঘরে ঘরে উঠুক কালো পতাকা , আজ বিজয়ের পতাকার সাথে থাকবে  কালোপতাকা উড্ডীয়ম্যান।  ধর্ষকদের দ্রুত বিচার না হওয়া পর্যন্ত সাধারন ছাত্র- জনতা চালাবে কালো পতাকা মিছিল।  

 লেখক : আরিফ মাহফুজ , সাংবাদিক-কলামিষ্ট , যুক্তরাজ্য থেকে।

Wednesday, 23 September 2020

উজানের নৌকা ভাটিতে : আরিফ মাহফুজ |Sunamganj Live|সুনামগঞ্জ লাইভ

উজানের নৌকা ভাটিতে : আরিফ মাহফুজ |Sunamganj Live|সুনামগঞ্জ লাইভ


নিরপেক্ষ দৃষ্টি ভঙ্গিতে রাজনৈতিক সমীকরণ বিশ্ল্লেষণের অধিকার সবারই আছে। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক চর্চাকে পাশ্চাত্যের রাজনৈতিক গবেষকরা অত্যন্ত ভয়ঙ্কর পটভূমি হিসাবে উল্লেখ করেন স্থানীয় রাজনীতিকে।  যার সমীকরণ মিনিটে মিনিটে পরিবর্তন হয়। তবে জাতীয় রাজনীতির ভিত কিন্তু প্রকট ভাবে নির্ভর করে স্থানীয় বা তৃণমূল রাজনীতির উপর। স্থানীয়  বা   তৃণমূল রাজনীতি হলো  জাতীয় রাজনীতির মেরুদন্ড।প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল তৃণমূলের উপর নির্ভরশীল বলেই সব সময় তৃণমূলকে সংগঠিত করার জন্য সবচেয়ে বেশি গুরত্ব প্রদানের মাধ্যমে সময় ব্যয়  করা হয় ।
আবার দলীয় কট্টর নেতাদেরও খুব গুরুত্ব দেয়া হয় এবং এটাই উচিত। কর্মী থেকে  তিলে  তিলে নেতা হওয়া নেতাদের সঠিক মূল্যায়ন করা  প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের নীতি গত বৈশিষ্ট।  কিন্তু হঠাৎ  কিছু ব্যাতিক্রম ঘটনা লক্ষ্য করা যায় যা থেকে রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে মহা সংকটে কিংবা চিন্তায় পরে যান রাজনৈতিক বিশ্ল্লেষকরা বা সুশীল সমাজের চিন্তাবিদরা। এরকম বিষয় যে কোন রাজনৈতিক দলেই ঘটুকনা কেন। সম্প্র্রতি জামালগঞ্জ উপজেলার উপনর্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রাথী নির্বাচনে অত্যন্ত নাটকীয় পটভুমির জন্ম হয়ে গেলো। দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নিয়ে গত ১৮ই সেপ্টেম্বর জামালগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ এর তৃণমূল পর্যায়ে একটি ভোটাভোটি হয়ে গেলো -যেখানে ৬১টি ভোট আর মধ্যে ৫৭টি ভোট পেয়েছেন মনোনয়ন প্রত্যাশী রেজাউল  করিম শামীম। রেজাউল করিম শামীমের তৃণমূল নির্বাচনের রায় পরিষ্কার করে দিয়েছিলো যে তিনিই দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছেন বা তিনিই যোগ্য প্রার্থী। কিন্তু বেলা শেষে বদলে গেলো দৃশ্যপট -ট্রেলার যেরকম ছিল ফুল মুভি উল্টো। দল থেকে মনোনয়ন পেলেন তৃণমূল নির্বাচনে ৪ ভোট পাওয়া ইকবাল আল আজাদ। তার মানে রাজনীতির বা রাজনৈতিক দলের  ট্রেলার আর ফুল মুভি এক হয় না। এবার আসা যাক মূল বিশ্ল্লেষণে -ইকবাল আল আজাদের মনোনয়ন পাওয়াকে সবারই স্বাগতম ও অভিনন্দন জানানো উচিত -দলের সবাই ও উপজেলাবাসী সবাই তাঁর জন্য শুভ  কামনা করছে -এটাই স্বাভাবিক। সে তাঁর চেষ্টার মাধ্যমে অর্জন করেছে। এখন কথা হলো মনোনয়ন প্রদান কারীরা প্রাথী নির্বাচনে কি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ? নাকি স্বজন প্রিয়তায় গা ভাসিয়ে প্রাথী দিয়েছেন। নিরপেক্ষতায় থাকলে দৃষ্টি প্রক্ষেপন কি বলে ? মনোনয়ন পাওয়ার কথা ছিলো রেজাউল করিম শামীম -কিন্তু কেন তিনি পাননি ? তাহলে কি পূর্বের বিরাগভাজন কারীরাই  কল কাঠি নেড়েছেন ? যদি তাই হয় তাহলে সারাজীবন একই দলে রাজনীতি করে জীবন পার করে লাভ কি ? বর্ষীয়ান খেতাব লাগানোর দরকার কি ? রেজাউল করিম শামীম একজন কট্টর পন্থী আওয়ামীলীগার।   দল  ত্যাগ দল পরিবর্তন  করতে তাঁকে দেখা যায়নি কখনো। তিনি একনিষ্ঠ একজন আওয়ামীলীগার।গত উপজেলা নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়েও তিনি মনোনয়ন পাননি , পরে স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করেন।  যদিও গবেষকদের মতে  গত উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে তাঁর নির্বাচন করা সঠিক সিদ্ধান্ত ছিলোনা। গত নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়াটাই আজকের প্রেক্ষাপটের জন্য দায়ী। 
তাছাড়াও স্থানীয় অনেক বিষয়ে জড়িত হওয়া নিয়ে রেজাউল করিম শামীমকে নিয়ে নেগেটিভ গুঞ্জন রয়েছে  যা বর্তমান প্রেক্ষাপট সৃষ্টির পিছনে কাজ করেছে। তবে ছোট থেকে বড়  বেশিরভাগ রাজনৈতিক নেতাদেরই নেগেটিভ গুঞ্জন থাকে।  তাই বলে একজন বর্ষীয়ান নেতাকে মূল্যায়নের বাহিরে ফেলে দেয়া কোনো রাজনৈতিক দলেরই উচিত না বা কাম্য নয় ।  এরকমই যদি হয় তাহলে মানুষ প্রকৃত রাজ নীতি থেকে সরে যাবে।  নতুন প্রজন্ম ধরে নিবে নেতৃত্বে আসার জন্য রাজনীতির দরকার নেই -টাকা আর লবিং থাকলেই জনপ্রতিনিধি হওয়া যায়  -যে দুটি জিনিস থাকলে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সময়সীমার কোনোটারই  দরকার নেই সে দুটি জিনিসই দরকার। নতুন
প্রজন্ম যাতে রাজনীতি বিমুখ না হয়ে যায় সেদিকে খেয়াল রেখে প্রত্যেক দল কে তৃণমূলকে মূল্যায়ন করে -তৃণমূলের মতামতকে প্রাধান্য দিতে হবে।  তৃণমূলের মূল্যায়নকে অবজ্ঞা করে উজানের নৌকা ভাটিতে দিলে  রাজনীতির উপর মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলবে।সেটা  যে কোনো দলই হউক না কেন। সবশেষে , সব প্রার্থীর জন্য শুভ কামনা করছি , যেন সরকারী প্রভাব মুক্ত একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন হয় সেই প্রত্যাশায় ।

লেখক : আরিফ মাহফুজ , সাংবাদিক-কলামিস্ট।

Monday, 21 September 2020

জামালগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

জামালগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান


সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের উপর হামলার প্রতিবাদে স্মারকলিপি প্রদান ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার সকালে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আয়োজনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন পরবর্তী সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমা-ের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম কলমদরের সভাপতিত্বে ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমা-ের সাবেক ডেপুটি কমা-ার শ্রীকান্ত তালুকদার, সাবেক দপ্তর সম্পাদক মো. রইছ উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা নিতাই বনিক, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান মারজানা ইসলাম শিবনা প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ‘বিগত ১২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের কালীপুর গ্রামের প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা সোনাফর আলীর স্ত্রী ও তার ছেলের স্ত্রীর উপর একই ইউনিয়নের লম্বাবাঁক গ্রামের দিলোয়ার হোসেন গংদের চালানো সন্ত্রাসী ও নির্যাতনমূলক কর্মকা-ে আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি প্রার্থনা করছি। দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলে আর কোন অপরাধী এমন অপরাধ কর্ম করতে সাহস পাবে না।’
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব বলেন, ‘আমি এখন সুনামগঞ্জ মিটিংয়ে আছি। অফিসে এসে স্মারকলিপি দেখে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

Saturday, 19 September 2020

শেষ ভালো যার, সব ভালো তার: সাজিদুর রহমান সাজিদ |Sunamganj Live|সুনামগঞ্জ লাইভ

শেষ ভালো যার, সব ভালো তার: সাজিদুর রহমান সাজিদ |Sunamganj Live|সুনামগঞ্জ লাইভ


শেষ ভালো যার, সব ভালো তার
সাজিদুর রহমান সাজিদ
..........
শেষ পর্যন্ত এ চরম মা'জুর অবস্থায়ও দেখা গেল শায়খুল ইসলাম আহমদ শফি রাহ. ঠিক। শায়খুল ইসলাম সায়্যিদ হুসাইন আহমদ মাদানি রাহ.র বাংলাদেশি খলিফাদের মধ্যে নানা কারণে তিনি সর্বাধিক পরিচিত ও আলোচিত। একই সঙ্গে ছিলেন সর্বজন মান্য ও সর্বজন শ্রদ্ধেয়। কী সুন্দর সব দেনা-পাওনা মিটিয়ে, সব ঝগড়া ও সমালোচনার পথ বন্ধ করে চলে গেলেন। কতিপয় পল্টিবাজ রাজনীতিকের বলয়ে ছিলেন। এরা তারে ঘিরে রাখতো সবসময়। এরা ছাড়া অন্য কাউকে যিনি নির্মোহ বাস্তবতা তুলে ধরতে পারেন- তার ধারও ঘেঁষতে দেওয়া হতো না। তাই অনেকেই তার সমালোচনা করেছে। সেই অনেকের মধ্যে বড় একটা অংশ ছিল মসলকে দেওবন্দবিরোধী। তারা দেওবন্দি সেজে বড় নোংরা সমালোচনায় ছিল লিপ্ত। সমালোচকদের ছোট একটা অংশ ছিল দেওবন্দি। তারা অপপ্রচারে ধোঁকা খেয়ে অনেক কিছু না বুঝে সমালোচনা করেছে। তবে সমালোচক দেওবন্দিদের মধ্যে বেশিরভাগ ছিল ইয়াং জেনারেশন।
জান্নাতি মানুষ হয়ে থাকেন সরলসোজা। সবাইকে বিশ্বাস করেন। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। দুনিয়ার সঙ্গে তেমন সম্পর্ক নেই। রোগযন্ত্রণা এবং খাতেমা বিল খায়র এর চিন্তায়ই ডুবে থাকতেন সারাক্ষণ। বাইরের জগৎ নিয়ে ভাববার সময়ও ছিল না, শক্তিও ছিল না। এমন অবস্থায় ইন্নি নাসিহুন আমীন হয়ে তাকে পরামর্শ দেওয়া হত, তিনি মানতেন। নিজে ভালো, সবাইকে ভালো মনে করতেন। এই ইন্নি নাসিহুন আমীনরা তাকে কষ্ট দিয়েছে, সমালোচনার পাত্র বানিয়েছে। কেউ কেউ তো তিনি শায়খুল ইসলাম মাদানি রাহ. এর খলিফা কিনা- প্রশ্ন তুলেছে। গোনাহ ওলায়েতর মুনাফি নয়; যেমন খেলাফে আওলা নবুওয়তের মুনাফি নয়। কিন্তু যারা এতসব বেআদবি করল, বদনাম করল, জঘন্য সমালোচনা করল এই ওলীর বিরুদ্ধে- তারা ইতিহাসের আস্তাঁকুড়েই ঠাঁই পাবে। মানুষ তাদের কথা ঘৃণার সাথে স্মরণ করবে। কিন্তু আহমদ শফি রাহ. ইতিহাসের পুরোভাগে উপস্থিত থাকবেন স্বর্ণোজ্জ্বল কান্তি নিয়ে। তাকে মানুষ স্মরণ করবে বিনম্র শ্রদ্ধায়, দোয়ায় ও অকৃত্তিম ভালোবাসায়। তার উত্থান যেমন আলোচিত, তার প্রস্থানও তেমনি প্রশংসিত। শেষ ভালো যার, সব ভালো তার।

Wednesday, 16 September 2020

এক লাফে পেঁয়াজের সেঞ্চুরি: আলী রেজা |Sunamganj Live| সুনামগঞ্জ লাইভ

এক লাফে পেঁয়াজের সেঞ্চুরি: আলী রেজা |Sunamganj Live| সুনামগঞ্জ লাইভ


আলী রেজা: গত বছর এই সময় কৃতিম সংকট তৈরি করে ২৫০-৩০০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হলেও, আমরা দেখেছি শেষের দিকে ব্যবসায়ীদের পেঁয়াজ গুদামে পঁচেছে। তাই আমাদের এখনি ক্রয় অভ্যাস পরিবর্তন করা উচিৎ। অযথা আতংকগ্রস্থ হয়ে একসাথে বেশি পেঁয়াজ কিনে মধ্যবিত্ত ও নিন্মবিত্ত মানুষকে বিপদে ফেলা কোন ভাবেই উচিৎ নহে। আমরা অল্প অল্প করে কিনি এবং পেঁয়াজের ব্যবহার কমাবার চেষ্টা করি। মানুষকে আতংকগ্রস্থ করে ব্যবসায়ীরা হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। এটাই ব্যবসায়ীদের কৌশল। ব্যবসায়ীদের এই  চালাকি ঠেকাতে আমরা ক্রেতারা প্রতিজ্ঞা করি, পেঁয়াজ গুদামেই পঁচানোর ব্যবস্থা করব। 
বাজারে বর্তমান বাজার দর ৯০-১০০ টাকা।
যে বা যারা এই পেঁয়াজের বাজার দর বাড়ানোর জন্য পেঁয়াজের কৃত্রিম সংকটের সৃষ্টি করছে, তাদের প্রতি কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের দৃৃষ্টি আকর্ষণ করছি । আর আমরা ৩০- ৪০ টাকার পেঁয়াজ ১০০ - ১৫০ টাকায় কিনব না। পেঁয়াজের ব্যবহার কমাব, ব্যয় বাড়াব না। ভারত গতকাল পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করেছে। আমদানিকৃত পেঁয়াজের দাম কোনক্রমেই ৩২ টাকা কেজির বেশি না। তারপরও দাম লাফিয়ে বাড়ছে। এটার জন্য আমাদের দেশীয় ব্যবসায়ীদের অসভ্য মানসিকতাই দায়ী। সেহেতু বর্ধিত দামে প্রচুর পেঁয়াজ কিনে গরীব মানুষকে বিপদে না ফেলে, আসুন পেঁয়াজের ব্যবহার কমাই। ১৫ দিন এই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারলে, পেঁয়াজের ঝাঁজ আমাদের নয়, বরং অশুভ ব্যবসায়ীদের উপর পড়বে।