পাহাড়ের কোল থেকে নেমে আসা ঝর্ণার মন জুড়িয়ে যাওয়া রূপ নিয়ে আজকের লেখা। তিনদিকে মেঘালয় পাহাড়, আর তার সামনে টিলার ওপর চোখ জুড়ানো স্মৃতিসৌধ। একবার দেখলে বার বার দেখার ইচ্ছা হয়; মন চায় সারাক্ষণ সেখানেই বসে থাকি আর তার সৌন্দর্য উপভোগ করি। বলছিলাম সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার বাঁশতলা গ্রামের স্মৃতিসৌধ এর কথা। তিন দিকে মেঘালয় পর্বতমালা ঘিরে থাকা বাঁশতলা স্মৃতিসৌধ গড়ে উঠেছে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের ১৪ জন শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার সমাধির পাশে। তার সাথে সেখানে দর্শনীয় স্থান হিসেবে আছে চেলাই খালের ওপর স্লুইসগেট আর টিলার ওপর জুমগাঁও।
ডাউকি সড়ক থেকে সুনামগঞ্জ এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহ সীমান্তবর্তী অঞ্চল নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পাঁচ নম্বর সেক্টর। সে সেক্টরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী। সেই পাঁচ নম্বর সেক্টরের সাবসেক্টর ছিল সুনামগঞ্জ জেলার বাঁশতলা। এখানকার সাবসেক্টর কমান্ডার ছিলেন ক্যাপ্টেন হেলাল উদ্দিন। পাহাড়বেষ্টিত বাঁশতলা এলাকায় এবং তার আশপাশে সংঘটিত যুদ্ধে যাঁরা শহীদ হন, তাঁদের সমাহিত করা হয় বাঁশতলার এই নির্জনে। তাঁদের বীরত্বের সেই স্মৃতিকে অম্লান করে রাখার জন্যই বাঁশতলা স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়। এখানে পথের দু’পাশের সৌন্দর্য অসাধারণ; তার সঙ্গে আছে নানান জানা-অজানা পাখির ডাক। স্মৃতিসৌধে পৌঁছানোর আগেই মুগ্ধ হতে হয় এখানকার স্লুইসগেটে এসে। চেলাই খালের ওপর নির্মিত স্লুইসগেটটি দেখার পর পা যেন আর আগে বাড়তে চায় না। মন চাইবে সেখানটাতেই অনেকক্ষণ থেকে উপভোগ করতে সেই সৌন্দর্য। স্মৃতিসৌধের কাছাকাছি পৌঁছালে মনে হবে ঝকঝকে নীল আকাশে রক্তিম সূর্য উঠছে। আর যেন হাত বাড়ানো দূরত্বে আছে ঘনসবুজ পাহাড়।
স্মৃতিসৌধ দেখার পরে ফিরে আসার পথে যদি সেই মনজুড়ানো স্লুইসগেট। যা ১ কোটি ২৬ লাখ ১০ হাজার টাকা ব্যয়ে ২০০৫ সালে এটি নির্মিত হয়। যদিও নদী শাসন প্রকৃতি বিরোধী তবুও বয়ে চলা পাহাড়ি ঝর্ণার মাঝে এ স্লুইসগেট আলাদা সৌন্দর্য সৃষ্টি করেছে। এখানে ঠান্ডা ও শীতল স্বচ্ছ পানিতে সাঁতার কেঁটে চাইলে সহজেই শরীরের ক্লান্তি দূর করতে পারবেন। তার পরে চলে যেতে পারেন টিলার উপরের পাহাড়ি গ্রাম জুমগাও-এ। সেখানে প্রায় ৩৬ টি আদিবাসী পরিবারের বসবাস। তারা নিজেদের ব্যবহার্য যাবতীয় আসবাবপত্র নিজ হাতেই তৈরী করে থাকে; চেষ্টা করে স্বাবলম্বী থাকার। তাদের সেই টিলার উপরেই রয়েছে একটি মিশনারী স্কুল ও একটি উপাসনালয়। সবমিলিয়ে টিলার উপর সেই ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর বাড়িঘর আর সে পরিবেশ দেখার মতো আরেকটি জায়গা যা কিনা যেকোন মানুষের অন্তরে জায়গা করে নিতে পারে।
বাঁশতলা স্মৃতিসৌধে যাবার রাস্তা:
ঢাকা থেকে বাঁশতলায় যেতে হলে আপনাকে প্রথমে সুনামগঞ্জ আসতে হবে। সায়দাবাদ বা ফকিরাপুল বাসস্ট্যান্ড থেকে দিনরাত ঢাকা-সিলেট-সুনামগঞ্জ রুটের বাস চলাচল করে। সুবিধামতো সময়ে হানিফ, মামুন কিংবা শ্যামলী পরিবহনের বাসে চেপে বসলেই হবে। সে বাস আপনাকে সরাসরি নিয়ে আসবে সুনামগঞ্জ সদরে। সেখান থেকে বাঁশতলা স্মৃতিসৌধ যেতে হলে আপনি সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারা বাজার উপজেলা হয়েও বাঁশতলা যেতে পারেন, আবার ছাতক উপজেলা ঘুরেও বাঁশতলা যাবার রাস্তা রয়েছে। ছাতক বাজার থেকে সুরমা নদী পার হয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চেপে সরাসরি বাঁশতলায় যাওয়া যায়। তবে আমার মতে ভ্রমনপীপাসু লোকদের ছাতক ঘুরে যাওয়াটাই ভালো। এতে করে যাবার পথে দর্শনীয় ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরিও ঘুরে আসার মতন বোনাস পেয়ে যেতে পারেন।
ঢাকা থেকে বাঁশতলায় যেতে হলে আপনাকে প্রথমে সুনামগঞ্জ আসতে হবে। সায়দাবাদ বা ফকিরাপুল বাসস্ট্যান্ড থেকে দিনরাত ঢাকা-সিলেট-সুনামগঞ্জ রুটের বাস চলাচল করে। সুবিধামতো সময়ে হানিফ, মামুন কিংবা শ্যামলী পরিবহনের বাসে চেপে বসলেই হবে। সে বাস আপনাকে সরাসরি নিয়ে আসবে সুনামগঞ্জ সদরে। সেখান থেকে বাঁশতলা স্মৃতিসৌধ যেতে হলে আপনি সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারা বাজার উপজেলা হয়েও বাঁশতলা যেতে পারেন, আবার ছাতক উপজেলা ঘুরেও বাঁশতলা যাবার রাস্তা রয়েছে। ছাতক বাজার থেকে সুরমা নদী পার হয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চেপে সরাসরি বাঁশতলায় যাওয়া যায়। তবে আমার মতে ভ্রমনপীপাসু লোকদের ছাতক ঘুরে যাওয়াটাই ভালো। এতে করে যাবার পথে দর্শনীয় ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরিও ঘুরে আসার মতন বোনাস পেয়ে যেতে পারেন।
0 coment rios: